বাংলাদেশে কোণঠাসা ভারতীয়রা! ওয়ার্ক পারমিট বাতিলের দাবি ইনকিলাব মঞ্চের, উত্তাল শাহবাগ।

১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে ওপার বাংলার মাটি। এবার বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের ‘ওয়ার্ক পারমিট’ বাতিলের দাবি তুলে রাজপথে নামল প্রভাবশালী সংগঠন ইনকিলাব মঞ্চ। মঙ্গলবার ঢাকার শাহবাগে এক বিশাল মিছিল থেকে ভারতের বিরুদ্ধে ‘খুনিদের আশ্রয় দেওয়ার’ অভিযোগ তুলে সরব হন হাদি সমর্থকরা। অন্যদিকে, নরসিংদীতে হিন্দু ব্যবসায়ী মণি চক্রবর্তী খুনের বিচার চেয়ে পথে নেমেছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।
ইনকিলাব মঞ্চের হুঁশিয়ারি ও ৪ দফা দাবি: গণআন্দোলনের নেতা শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার এবং ভারতীয়দের কাজের অনুমতি বাতিলসহ ৪ দফা দাবি জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। তাদের অভিযোগ:
-
হাদি হত্যার প্রধান অভিযুক্তরা বর্তমানে ভারতের মেঘালয়ে আশ্রয় নিয়ে আছে।
-
দিল্লি যদি তাদের হস্তান্তর না করে, তবে বাংলাদেশে অবস্থানরত সব ভারতীয় নাগরিকের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করতে হবে।
-
খুনিদের ফেরত না দিলে ভারতের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করতে হবে।
-
প্রশাসনের ভেতর লুকিয়ে থাকা ফ্যাসিস্টদের চিহ্নিত করে বিচার করতে হবে।
উল্লেখ্য, ভারত ইতিপূর্বেই হাদি খুনের আসামিদের ভারতে প্রবেশের দাবি নাকচ করে দিয়েছে। বিএসএফ এবং মেঘালয় পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, সীমান্ত পারাপারের এমন কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই।
মণি চক্রবর্তী খুনে স্তম্ভিত ঢাকা: রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝেই সোমবার রাতে ঢাকার কাছে নরসিংদীর চরসিন্দুর বাজারে নৃশংসভাবে খুন হন হিন্দু মুদি ব্যবসায়ী মণি চক্রবর্তী (৪০)। মঙ্গলবার দুপুরে বাজার সমিতির ব্যানারে কয়েকশো ব্যবসায়ী এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে মানববন্ধন করেন।
-
পুরনো আক্রোশ? প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, মণি চক্রবর্তী দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর ওপর হামলা হয়। আততায়ীরা তাঁর কাছে থাকা মোবাইল বা টাকা-পয়সা নেয়নি, যা থেকে পুলিশের অনুমান—লুটপাট নয়, ব্যক্তিগত বা সাম্প্রদায়িক আক্রোশ থেকেই এই খুন।
-
আতঙ্কে হিন্দু সমাজ: গত কয়েক সপ্তাহে রানা প্রতাপ, দিপু চন্দ্র দাস এবং খোকন চন্দ্র দাসের পর মণি চক্রবর্তীর মৃত্যু বাংলাদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল।
নির্বাচনের আগে অস্থিরতা: নির্বাচনের ঠিক আগে একের পর এক হিন্দু ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতা খুনের ঘটনায় ঢাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম সংকটে। একদিকে ভারত-বিরোধী সেন্টিমেন্ট উসকে দিয়ে ভারতীয়দের তাড়ানোর ডাক, অন্যদিকে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা—সব মিলিয়ে ২০২৬-এর শুরুতেই চরম অস্থিরতার মুখে বাংলাদেশ।