টাটার শোরুমে ভয়াবহ তাণ্ডব! ১০০ কোটির ব্যবসা লাটে ওঠার জোগাড়? জলপাইগুড়িতে আতঙ্কে কর্মীরা।

জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জে টাটা মোটরসের বিশাল সেলস ও সার্ভিস সেন্টারে হামলার ঘটনায় তিন দিন পেরিয়ে গেলেও অধরা অভিযুক্তরা। উল্টে শোরুমের মালিকের বিরুদ্ধেই জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হওয়ায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলাজুড়ে। নিরাপত্তার অভাবে এবার ১০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ করা ব্যবসা গুটিয়ে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন কর্ণধার বিশাল আগরওয়াল।

ঠিক কী ঘটেছিল? গত শনিবার রাজগঞ্জের বন্ধুনগরে টাটা লক্স প্রাইভেট লিমিটেডের শোরুমে ঢুকে তাণ্ডব চালায় একদল দুষ্কৃতী। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, কীভাবে অফিসের ভেতর ঢুকে মারধর ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এই শোরুমটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখান থেকেই ভারতীয় সেনাবাহিনীর মিসাইল ও সমরাস্ত্র বহনকারী গাড়িগুলির পরিষেবা দেওয়া হয়। প্রায় ৩০০ জন কর্মী এখানে কাজ করেন।

পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্ন: শোরুমের কর্ণধার বিশাল আগরওয়াল ৩ জন দুষ্কৃতীর নামে নির্দিষ্ট অভিযোগ জানালেও পুলিশ কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি। উল্টে বিশালবাবুর নামেই শ্লীলতাহানি ও খুনের চেষ্টার মামলা ঠুকে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে বিশালবাবু বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজে সব স্পষ্ট থাকার পরেও একজন ব্যবসায়ীর নামে এমন মিথ্যে মামলা করা হচ্ছে। নারী কর্মীরা ভয়ে কাজে আসছেন না। এ রাজ্যে সম্মান নিয়ে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।”

রাজনৈতিক তরজা ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ: ঘটনাটি নিয়ে আসরে নেমেছে বিজেপি। তাদের প্রশ্ন, সিসিটিভি ফুটেজ থাকার পরেও কেন পুলিশ হাত গুটিয়ে বসে আছে? অন্যদিকে, সোমবার জেলাশাসকের দ্বারস্থ হয়ে বিশাল আগরওয়াল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দ্রুত সমাধান না হলে তিনি এই ইউনিটটি বন্ধ করে দেবেন। ১০০ কোটি টাকার লগ্নি এবং ৩০০ পরিবারের রুটি-রুজি এখন বিশ বাঁও জলে।

পুলিশের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া হলেও, দুষ্কৃতীদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং পুলিশের এই ‘রহস্যময়’ নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে রাজগঞ্জের শিল্পমহলে এখন আতঙ্কের আবহ।