ছাত্রদের টিসি দিতে ৩০০ টাকা! প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফের ‘কাটমানি’ বিতর্ক! ছাত্রছাত্রীদের ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (TC) দেওয়ার বিনিময়ে মাথা পিছু ৩০০ টাকা দাবি করার অভিযোগ উঠল উত্তর ২৪ পরগনার হাবরা হিজলপুকুর এলাকার এক প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত শিক্ষক ইন্দ্রনীল মিত্র আবার শাসকদলের জেলা শিক্ষক সেলের সভাপতি পদেও রয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাবরায় শুরু হয়েছে ব্যাপক রাজনৈতিক শোরগোল।

কী অভিযোগ অভিভাবকদের? চতুর্থ শ্রেণি পাস করার পর ছাত্রছাত্রীরা এখন হাই স্কুলে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, স্কুল ছাড়ার শংসাপত্র বা টিসি নিতে কোনও টাকা লাগে না। কিন্তু অভিভাবকদের দাবি:

  • প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রনীল মিত্র প্রতিটি টিসি-র জন্য ৩০০ টাকা করে দাবি করছেন।

  • সরকারি রসিদ ছাড়াই এই টাকা চাওয়া হচ্ছে। যাঁরা টাকা দিতে অস্বীকার করছেন, তাঁদের সন্তানদের সার্টিফিকেট আটকে রাখা হয়েছে।

  • এর পাশাপাশি স্কুলে পঠন-পাঠনের কোনও শৃঙ্খলা নেই এবং শিক্ষকরা সময়মতো স্কুলে আসেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে।

নথিতে জালিয়াতি ও ‘ভুল’ সাল: শুধু আর্থিক দুর্নীতিই নয়, নথিপত্রে মারাত্মক ভুল ও বিভ্রান্তির অভিযোগও উঠেছে। ২০২৬ সালে দেওয়া সার্টিফিকেটে সাল লেখা রয়েছে ২০২৫! এমন ভুলের কারণে অন্য স্কুলে সন্তানদের ভর্তি করাতে গিয়ে চরম হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে অভিভাবকদের। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে হাবরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন অভিভাবকরা।

তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা: এই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিজেপি। বিজেপি নেতা দেবজ্যোতি দাম কটাক্ষ করে বলেন, “তৃণমূল আর কয়েক মাস পরেই ক্ষমতাচ্যুত হবে জেনে এখন ৩০০ টাকাও সংগ্রহ করছে। চুরির এই সংস্কৃতিই ওদের নেতা শিখিয়েছেন।”

অন্যদিকে, অস্বস্তিতে পড়ে হাবরা পৌরসভার পৌরপ্রধান নারায়ণ চন্দ্র সাহা জানিয়েছেন, “টিসি দেওয়ার জন্য কোনও টাকা নেওয়ার নিয়ম নেই। অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে দলীয় স্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযুক্তের সাফাই: যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক ইন্দ্রনীল মিত্র। তাঁর দাবি, এই সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।