ওমলেট খাওয়াই হয়ে গেলো কাল, AI দিয়ে মৃতার ছবি এঁকে খুনি ধরল পুলিশ

বিশ্বখ্যাত রহস্য লেখিকা আগাথা ক্রিস্টির গল্পের গোয়েন্দা এরকুল পোয়ারোকে মনে আছে? জুতোর ছাপ দেখে যিনি ধরে ফেলতেন খুনিকে। মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়রে ঠিক যেন সেই গল্পের বাস্তব সংস্করণ দেখল দেশবাসী। তবে এখানে জুতোর ছাপ নয়, একটি ওমলেটের টুকরো, অনলাইন পেমেন্ট হিস্ট্রি এবং আধুনিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)— এই ত্র্যহস্পর্শেই এক নৃশংস খুনের কিনারা করল পুলিশ। গ্রেফতার করা হয়েছে শচীন সেন নামে এক যুবককে।
সেই ভয়ংকর রাত: ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ২৯ ডিসেম্বর। গোয়ালিয়র জেলার গোলা কা মন্দির এলাকার এক জঙ্গলে এক মহিলার ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। খুনি ভারী পাথর দিয়ে মহিলার মাথা ও মুখ এমনভাবে থেঁতলে দিয়েছিল যে, তাঁকে শনাক্ত করা অসম্ভব ছিল। তখনই আসরে নামে পুলিশ। মৃতদেহের বীভৎস হয়ে যাওয়া মুখের ছবি থেকে AI প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি প্রতিকৃতি বা স্কেচ তৈরি করেন তদন্তকারীরা।
ওমলেটের টুকরো ও আসল রহস্য: মৃতদেহের পাশেই পড়েছিল সামান্য একটুকরো ওমলেট। পুলিশ অফিসাররা আন্দাজ করেন, এটিই হতে পারে অপরাধীর রেখে যাওয়া সূত্র। ঘটনাস্থলের ২০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে থাকা সমস্ত খাবারের দোকানে হানা দেয় পুলিশ। জানা যায়, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে এক মহিলা ও পুরুষ সেখানে ওমলেট খেয়েছিলেন।
পেমেন্ট হিস্ট্রিই ধরিয়ে দিল খুনিকে: এরপরই সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে, অভিযুক্ত শচীন সেন ওই মহিলার সঙ্গেই ছিল। ওমলেট খাওয়ার পর শচীন অনলাইনে দাম মেটায়। সেই অনলাইন পেমেন্টের সূত্র ধরে শচীনের মোবাইলের অবস্থান এবং পরিচয় উদ্ধার করে মঙ্গলবার তাকে পাকড়াও করে পুলিশ।
খুনের নেপথ্যে পরকীয়া ও আক্রোশ: তদন্তে জানা গেছে, মৃত মহিলা টিকমগড়ের বাসিন্দা ছিলেন। বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও সপ্তাহ খানেক আগে শচীনের সঙ্গে পরিচয়ের পর স্বামীকে ছেড়ে তার কাছেই থাকছিলেন তিনি। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, মহিলার আরও অন্য কারোর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে— এই সন্দেহ থেকেই রাগের মাথায় তাঁকে নির্জন জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে খুন করে শচীন।
পুলিশের বয়ান: গোয়ালিয়রের পুলিশ সুপার ধরমবীর সিং জানিয়েছেন, “এটি একটি অত্যন্ত জটিল মামলা ছিল। কিন্তু ওমলেটের সূত্র ধরে সিসিটিভি এবং ডিজিটাল পেমেন্টের মেলবন্ধনেই আমরা অভিযুক্তকে ধরতে সফল হয়েছি।”