তেল শুধু নয়, সোনার খনির উপর বসে ভেনেজুয়েলা, দখল করতে চাইছেন ট্রাম্প?

বিশ্ব রাজনীতিতে এক অভাবনীয় ও নজিরবিহীন মোড়! ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে বন্দি করেছে আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই চাঞ্চল্যকর খবর নিশ্চিত করেছেন। শুধু তাই নয়, ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে ভেনেজুয়েলার তেলের খনিগুলোতে সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে ওয়াশিংটন। এই ঘোষণার পর থেকেই বিশ্ব জ্বালানি বাজারে শুরু হয়েছে ব্যাপক অস্থিরতা।

তেল নাকি সোনা— আসল লক্ষ্য কী? ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং তেলের বাজারের স্থিতিশীলতা ফেরাতেই এই পদক্ষেপ। কিন্তু আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্দার আড়ালে রয়েছে অন্য এক ‘হলুদ’ খেলা। ভেনেজুয়েলা শুধু তেলের খনি নয়, আক্ষরিক অর্থেই সোনার পাহাড়ের ওপর বসে রয়েছে। আর সেই বিপুল খনিজ সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ নিতেই কি এই নাটকীয় গ্রেফতারি? এমন প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে।

ভেনেজুয়েলার সোনার ভাণ্ডার: ভেনেজুয়েলার দক্ষিণাঞ্চলের বিশাল বনাঞ্চল ও সমভূমির নিচে লুকিয়ে আছে ‘পাললিক সোনা’। নদী বা স্রোতের তলদেশে জমে থাকা এই সোনা ‘প্যানিং’ পদ্ধতির মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। ভূতাত্ত্বিকদের তথ্য অনুযায়ী:

  • সে দেশের গায়ানা শিল্ডে প্রায় ১০ হাজার টন উত্তোলনযোগ্য সোনা রয়েছে।

  • মেটাভলক্যানিক ও মেটাসেডিমেন্ট শিলাস্তরে এখনও পর্যন্ত ২০০টিরও বেশি সোনার খনির সন্ধান মিলেছে।

  • ‘চোকো ১০’-এর মতো অঞ্চলে যে সোনা পাওয়া যায়, তা অত্যন্ত উচ্চমানের। উত্তোলনের পর যার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই বিশুদ্ধ থাকে।

শ্যাভেজ থেকে মাদুরো: ‘ব্লু গোল্ড’-এর লড়াই সোনা ছাড়াও ভেনেজুয়েলার গায়ানা শিল্ডে রয়েছে টিন, টাংস্টেন, ট্যানটালাম এবং বিরল সব ধাতু। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজ এই সম্পদকে ‘ব্লু গোল্ড’ বা নীল সোনা বলে অভিহিত করেছিলেন। এই বিপুল সম্পদের সুরক্ষায় তিনি ১৫ হাজার রক্ষী মোতায়েন করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর মাদুরো ‘অরিনোকো মাইনিং জোন’ অধ্যাদেশ স্বাক্ষর করে এই খনিজ উত্তোলনে গতি আনেন।

ট্রাম্পের নজর কি তবে সম্পদে? আন্তর্জাতিক মহলের একাংশ মনে করছেন, গণতন্ত্র রক্ষা কেবল একটি অজুহাত মাত্র। আসল লক্ষ্য হলো ভেনেজুয়েলার এই কয়েক লক্ষ কোটি ডলারের খনিজ সম্পদ কুক্ষিগত করা। একটি স্বাধীন দেশের রাষ্ট্রপতিকে এভাবে বন্দি করা এবং অন্য দেশের সম্পদে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা নিয়ে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রশ্নও বড় হয়ে দেখা দিচ্ছে।