বাংলায় কি তালিবানি ফতোয়া? হুগলিতে মহিলা সাংবাদিকের চুল খোলা দেখে ‘হারাম’ স্লোগান, চরম হেনস্থা!

ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী দেশের প্রতিটি নাগরিকের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান এবং স্বাধীনভাবে বাঁচার অধিকার মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। কিন্তু ২০২৬ সালে দাঁড়িয়েও পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে এক মহিলা সাংবাদিকের পোশাক ও চুল খোলা থাকা নিয়ে যে অভিজ্ঞতা হলো, তা আধুনিক সভ্য সমাজকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। হুগলি জেলায় বিশ্ব ইজতেমার আসরে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হলেন বাংলা হান্টের (Bangla Hunt Exclusive) প্রতিনিধি রিয়া।
হুগলিতে বিশ্ব ইজতেমার শেষ দিনে ইজতেমায় আগত ব্যক্তিদের প্রতিক্রিয় নিতে গিয়েছিলেন রিয়া। কিন্তু সেখানে কাজ করতে গিয়ে তিনি বাধার মুখে পড়েন। রিয়ার অভিযোগ, বেশ কিছু সংখ্যালঘু ব্যক্তি তাঁর চুল খোলা দেখে আপত্তিকর মন্তব্য শুরু করেন। ভিডিওতে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, রিয়াকে লক্ষ্য করে বলা হচ্ছে— “আপনার চুল খোলা কেন? এটা হারাম! মাথায় কাপড় দিতে হবে, মুখ ঢাকতে হবে।” পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, অনেকে তাঁকে রাস্তা থেকে সরিয়ে দেন এবং জানান যে ইসলাম ধর্মে মহিলাদের কোনো জায়গা নেই [00:09]।
সাংবাদিক রিয়া যখনই প্রশ্ন করতে গিয়েছেন, তখনই তাঁকে পোশাকের দোহাই দিয়ে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এক প্রবীণ ব্যক্তিকে এই আচরণের কারণ জিজ্ঞাসা করলে তিনি সাফ জানান, “মহিলাদের ইসলামে আসা নিষিদ্ধ, তাদের পর্দার মধ্যে থাকতে হবে” [00:09]। এমনকি এক যুবক সরাসরি রিয়াকে বলেন যে, তাঁর চুল খোলা থাকায় তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর দেবেন না কারণ এটি “না-জায়েজ” বা নিষিদ্ধ [05:13]।
নিজের রাজ্যে দাঁড়িয়ে এই ধরনের মন্তব্যে হতভম্ব হয়ে পড়েন রিয়া। তাঁর কথায়, “হুগলির মতো পবিত্র মাটিতে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছিল আমি পশ্চিমবঙ্গে নেই, বরং আফগানিস্তান বা কোনো জেহাদি শাসিত এলাকায় রয়েছি” [01:05]। এই ঘটনা ফের একবার প্রশ্ন তুলে দিল— বাংলার মাটিতে মহিলাদের কাজের স্বাধীনতা কি তবে ধর্মের বেড়াজালে বন্দি? একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়েও কি মহিলারা তাঁদের পছন্দমতো পোশাক পরে স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না? এই তালিবানি মানসিকতার শেষ কোথায়, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।