অবৈধ ব্লাস্ট করিয়ে পাথর উত্তোলন, উদ্ধার হলো ৪ লেপার্ডের ছিন্নভিন্ন দেহ

সুপ্রিম কোর্ট আরাবল্লীতে খনন কার্যের ওপর স্থগিতাদেশ দিলেও দেশের অন্য প্রান্তে বন্যপ্রাণীদের প্রাণ যে কতটা বিপন্ন, তার প্রমাণ মিলল কর্নাটকে। বেঙ্গালুরু গ্রামীণ এলাকার যশবন্তপুর বিধানসভা কেন্দ্রের মানচনাবেলের কাছে চিক্কানাহল্লি এলাকায় অবৈধ পাথর উত্তোলনের জেরে প্রাণ হারিয়েছে চারটি চিতাবাঘ (লেপার্ড), যার মধ্যে একজন ছিল অন্তঃসত্ত্বা। এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।
বন বিভাগের আধিকারিকরা জানিয়েছেন, চিতাবাঘগুলোর মৃতদেহ ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক এসটি সোমশেখর এই ঘটনায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, বন বিভাগের চূড়ান্ত গাফিলতির কারণেই এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বেআইনি ব্লাস্টিং চললেও কর্তৃপক্ষ চোখ বন্ধ করে রয়েছে। সোমশেখর জানান, তিনি বারবার বনমন্ত্রীর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনও উত্তর পাননি। বিধায়কের দাবি, অবিলম্বে এই ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
অন্যদিকে, আরাবল্লী রক্ষায় সুপ্রিম কোর্ট এক বড় স্বস্তি দিয়েছে। গত ২০ নভেম্বরের নির্দেশ আপাতত কার্যকর করা হবে না বলে জানিয়ে পরবর্তী শুনানি ২১ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। রাজস্থানের সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির গবেষকদের আশঙ্কা, ২০৫৯ সালের মধ্যে পাহাড়ের এক-পঞ্চমাংশ গাছ জনবসতিতে পরিণত হয়ে উধাও হতে পারে। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আবহেই কর্নাটকের এই চিতাবাঘ মৃত্যু বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ নিয়ে ফের প্রশ্ন তুলে দিল।