২০২৬-এর আগে বড় ধামাকা! আলিমুদ্দিনে নওশাদ, তবে কি বাম-আইএসএফ জোট এবার পাকা?

২০২৫ সাল বিদায় নিতে আর মাত্র কয়েকটা দিন বাকি। ক্যালেন্ডারের পাতা ওল্টালেই দরজায় কড়া নাড়বে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন। আর নতুন বছর আসার আগেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক আঙিনায় শুরু হয়ে গেল চরম উত্তেজনা। শনিবার বিকেলে কলকাতার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে সিপিআইএম-এর রাজ্য সদর দপ্তরে ভাঙড়ের আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর আকস্মিক উপস্থিতি ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নয়া সমীকরণের জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, শনিবার দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ আলিমুদ্দিনে প্রবেশ করেন নওশাদ। সেখানে তাঁর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু এবং সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। যদিও এই বৈঠককে সৌজন্য সাক্ষাৎ হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, কিন্তু রাজনৈতিক মহলের দাবি— ২০২৬-এর নির্বাচনী রণকৌশল সাজাতেই এই রুদ্ধদ্বার আলোচনা।

তৃণমূল ও বিজেপি-বিরোধী ভোটকে এক ছাতার তলায় আনতে বামেরা দীর্ঘদিন ধরেই সচেষ্ট। ২০২১-এর নির্বাচনে ‘সংযুক্ত মোর্চা’র অভিজ্ঞতায় কিছুটা চিড় ধরলেও, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আইএসএফ-কে সঙ্গে রাখা বামেদের জন্য অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে গ্রামীণ ও সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে নওশাদের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে শাসকদল তৃণমূলকে চাপে ফেলাই এখন আলিমুদ্দিনের অন্যতম লক্ষ্য।

এদিনের বৈঠকে আসন রফার প্রাথমিক রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হয়েছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা থাকলেও নওশাদের আলিমুদ্দিনে আসা এক স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে— ২০২৬-এর মহারণে বাম-আইএসএফ জোট কার্যত সময়ের অপেক্ষা। নওশাদ সিদ্দিকীর এই পদক্ষেপ কি শাসকদলের ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে পারবে? নাকি বিরোধী ভোট ভাগাভাগি রুখতে এটিই বামেদের তুরুপের তাস হতে চলেছে? আপাতত আলিমুদ্দিনের এই মেগা বৈঠকের নির্যাস বুঝতে মরিয়া বাংলার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

Dipak Barman01
  • Dipak Barman01