বিজেপির টার্গেট ‘A’ ক্যাটাগরির ১৬২ আসন, ভুয়ো ভোটার বনাম আসল ভোটারের লড়াইয়ে বিপাকে তৃণমূল?

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো ভোটার তালিকার ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা SIR। আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া মনে হলেও, এর গভীরে লুকিয়ে রয়েছে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের ভাগ্য পরিবর্তনের চাবিকাঠি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই তালিকার শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়ার পর রাজ্যের নির্বাচনী সমীকরণ আমূল বদলে যেতে পারে।
বিজেপির অভ্যন্তরীণ রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনের মধ্যে ১৬২টি আসনকে তারা ‘A’ ক্যাটাগরিতে রেখেছে। অর্থাৎ, এই আসনগুলোতে পদ্ম শিবির নিজেদের জয়ের ব্যাপারে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। এই আত্মবিশ্বাসের মূল কারণ হলো SIR-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকার আমূল সংস্কার।
পরিসংখ্যান বলছে, SIR শুরু হওয়ার আগে রাজ্যে ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ। তবে প্রথম ধাপেই তালিকা থেকে প্রায় ৫৮ লক্ষ ভোটার বাদ পড়েছেন। এর পাশাপাশি আরও ৩১ লক্ষ ‘আনম্যাপড’ ভোটার রয়েছেন, যাঁদের তথ্য পুরনো তালিকার সাথে মেলানো যাচ্ছে না। প্রশাসনিক মহলের ধারণা, এদের একটি বড় অংশ চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন। এখানেই শেষ নয়, প্রায় ১ কোটি ৩৬ লক্ষ ভোটারকে ‘সাসপিশাস’ বা সন্দেহভাজন হিসেবে ফ্ল্যাগ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সন্দেহভাজন ভোটারের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৬৭ লক্ষ।
বিজেপির অভিযোগ, এই বিপুল সংখ্যক ভুয়ো ভোটার মূলত শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্ক। যদি এই ১ কোটি ৬৭ লক্ষের মধ্যে মাত্র ৩০ শতাংশ ভোটারও বাদ পড়েন, তবে সেই সংখ্যাটি দাঁড়াবে ৫০ লক্ষের কাছাকাছি। অর্থাৎ, মোট বাদ পড়া ভোটারের সংখ্যা ১ কোটি ৮ লক্ষ ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা মোট ভোটারের প্রায় ১৪ শতাংশ। ২০২১ সালের নির্বাচনে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে ভোটের ব্যবধান ছিল প্রায় ১০ শতাংশ। ফলে এই বিপুল পরিমাণ ভোটার বাদ পড়লে সেই ব্যবধান মুছে গিয়ে নির্বাচনের ফল সম্পূর্ণ বিপরীত হতে পারে।
তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য এই প্রক্রিয়ার কড়া সমালোচনা করেছে। তাদের দাবি, SIR-এর নামে প্রকৃত ভোটার, বিশেষ করে প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু মানুষকে বঞ্চিত করার চক্রান্ত চলছে। অন্যদিকে, বিজেপি একে ‘গণতন্ত্রের শুদ্ধিকরণ’ বলে অভিহিত করছে। মাঠের লড়াইয়ের আগে এখন ভোটার তালিকার এই ‘স্নায়ুযুদ্ধ’ই বলে দেবে বাংলার মসনদ শেষ পর্যন্ত কার দখলে যাবে।