“সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় চিটিংবাজ?” চরম অপমানে বিষ্ফোরক ‘মহারাজ’, সোজা গেলেন লালবাজারে

যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিয়োনেল মেসির অনুষ্ঠান ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কে এবার রণংদেহি মেজাজে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। কলকাতার আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাবের সভাপতি উত্তম সাহার বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার মানহানির মামলা ঠুকলেন প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক। লালবাজারে দায়ের করা অভিযোগে সৌরভ স্পষ্ট জানিয়েছেন, মেসির অনুষ্ঠান নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিদ্বেষমূলক অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
কেন ক্ষুব্ধ ‘মহারাজ’?
সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উত্তম সাহা দাবি করেন, মেসির সফরের আয়োজক শতদ্রু দত্তের পেছনে আসলে হাত রয়েছে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের। শুধুমাত্র অভিযোগ তুলেই থেমে থাকেননি উত্তমবাবু; সৌরভকে ‘চিটিংবাজ’ বলে কটাক্ষ করার পাশাপাশি শতদ্রু দত্তকে সৌরভের ‘টেনিয়া’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এই মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই তীব্র বিতর্ক শুরু হয়।
সৌরভের আইনজীবীদের দাবি, এই মন্তব্যগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং সৌরভের বিশ্বজোড়া ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা। আইনি নোটিসে অবিলম্বে এই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ৫০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে।
“আমি শুধুই অতিথি ছিলাম”
সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, ওই ইভেন্টের আয়োজন বা ব্যবস্থাপনার সঙ্গে তাঁর বিন্দুমাত্র প্রশাসনিক সম্পর্ক ছিল না। তিনি সেখানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাত্র। অথচ কোনো তথ্য ছাড়াই তাঁকে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িয়ে জনসমক্ষে অপমান করা হয়েছে।
মেসি-কাণ্ডে কোণঠাসা প্রশাসনও
উল্লেখ্য, মেসির সফর ঘিরে যুবভারতীতে যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি এখন উত্তাল। হাজার হাজার টাকা খরচ করে টিকিট কেটেও কেন দর্শকরা মেসিকে দেখতে পেলেন না, তা নিয়ে উঠেছে বড় দুর্নীতির প্রশ্ন। এমনকি এই ঘটনায় তদন্ত কমিটির শোকজের মুখে পড়েছেন রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমারসহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। এই ঘোলাটে পরিস্থিতির মধ্যেই সৌরভের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল, যার পাল্টা হিসেবেই এবার কড়া আইনি পদক্ষেপ নিলেন বিসিসিআই-এর প্রাক্তন সভাপতি।
এখন দেখার, সৌরভের এই ৫০ কোটির মামলার জবাবে কী পদক্ষেপ নেন উত্তম সাহা।