মেসি-কাণ্ডের জল গড়াল হাইকোর্টে! যুবভারতী ভাঙচুর নিয়ে দুটি মামলা দায়ের, মঙ্গলবারই শুনানি

সল্টলেকের বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মেসি-দর্শনকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট রণক্ষেত্র এবং সরকারি সম্পত্তিতে ভাঙচুরের ঘটনা এবার আদালত পর্যন্ত গড়াল। এই ঘটনায় কলকাতা হাইকোর্টে দুটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল মামলা দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন এবং এর মধ্যে একটি মামলার শুনানি মঙ্গলবারই হওয়ার কথা।

আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচাৰ্য একটি মামলা দায়েরের জন্য আবেদন করেন। অন্যদিকে, রাজ্য সরকার অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার রায়ের নেতৃত্বে যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে—সেই কমিটি গঠনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে দ্বারস্থ হয়েছেন আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়। এই সপ্তাহের মধ্যেই দ্বিতীয় মামলাটিরও শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। রাজ্য সরকারের গঠিত কমিটিতে মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবও রয়েছেন।

শনিবারের বিশৃঙ্খলার পরই স্টেডিয়ামের ভাঙচুর নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ক্ষুব্ধ দর্শকরা চেয়ার, টব, এমনকি কার্পেট পর্যন্ত কাঁধে তুলে নিয়ে যাওয়ার মতো অপ্রত্যাশিত ছবিও সামনে আসে। সংবাদমাধ্যমকে তাঁরা জানান, কেউ ৫ হাজার, কেউ বা ১০ হাজার টাকার টিকিট কেটেও মেসিকে দেখতে পাননি। আদালত জানতে চায়, আদতে টিকিটের মূল্য কত ধার্য করা হয়েছিল এবং কেন টিকিটের দামে এত ভিন্নতা।

ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (CAG) দ্বারা তদন্তের দাবি উঠেছে। পাশাপাশি, কিছু অনুরাগী কীভাবে কলকাতার নামী হোটেলে মেসির সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেলেন এবং এর পেছনে কত টাকার লেনদেন হয়েছিল—এই সমস্ত বিষয় নিয়েই মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে, রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য সরকারের গঠিত তদন্ত কমিটিকে মানতে অস্বীকার করেছেন। সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি বলেন, “পাড়ার লোককে রেখে তদন্ত কমিটি নয়, বর্তমান বিচারপতিকে রেখে কলকাতা পুলিশ, বিধাননগর পুলিশ, রাজ্য পুলিশকে সরিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত করা উচিত।” তাঁর দাবি, এই তদন্ত নিরপেক্ষ হবে না। একইসাথে, দর্শকদের টাকা ফেরত দিতেও সরকার উদ্যোগী হয়েছে। পাশাপাশি, আয়োজক শতদ্রু দত্তকে Serious Fraud Investigation Office (SFIO)-এর আওতায় এনে তদন্তের আবেদনও জানিয়েছেন একজন আইনজীবী।