“পালানোর জন্য সুড়ঙ্গ তৈরি করেছিলাম!”, ভারতের জেলে বন্দি থাকাকালীন ১৯৯৯ সালের আগেই ব্যর্থ মাসুদ আজহারের চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি

পাকিস্তান-ভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ (Jaish-e-Mohammed) কম্যান্ডার মাসুদ আজহার (Masood Azhar) জম্মু ও কাশ্মীরের জেলে বন্দি থাকাকালীন একাধিকবার পালানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু পুলিশের তৎপরতায় তার সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। এই চেষ্টার ব্যর্থতার পরেই ১৯৯৯ সালে নেপাল থেকে দিল্লিগামী একটি বিমান ছিনতাই করে তাকে মুক্ত করতে বাধ্য করা হয় ভারতকে।
সম্প্রতি পাকিস্তানের এক অনুষ্ঠানে মাসুদ আজহারের বক্তৃতার একটি অডিও ক্লিপ প্রকাশ্যে এসেছে, যা চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। ভারত ও পাকিস্তানের একাধিক বড় হামলার মাস্টারমাইন্ড মাসুদ আজহার সেই অডিওতে ১৯৯০-এর দশকে ভারতের জেলে বন্দি থাকার সময়ের অভিজ্ঞতার কথা স্বীকার করেছে।
সুড়ঙ্গ খোঁড়ার চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি:
প্রকাশ্যে আসা এই অডিওতে মাসুদ আজহারকে বলতে শোনা যায়, সে কীভাবে জম্মু ও কাশ্মীরের কোট ভালওয়াল জেল ভেঙে পালানোর পরিকল্পনা করেছিল। অতীতের কথা স্মরণ করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে জইশ প্রধান।
মাসুদ দাবি করেছে, কোট ভালওয়াল কারাগারে বন্দী থাকাকালীন সে এবং তার সহযোগীরা পালানোর জন্য একটি সুড়ঙ্গ তৈরি করেছিল। এমনকি সুড়ঙ্গ খোঁড়ার জন্য বাইরে থেকে সরঞ্জামও আনা হয়েছিল। মাসুদের দাবি, পালানোর সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল, কিন্তু একেবারে শেষ দিনে কারা প্রশাসন বিষয়টি জানতে পারে এবং সুড়ঙ্গটি আবিষ্কার করে।
ভয়ঙ্কর বন্দি জীবনের স্মৃতি:
পালানোর চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর জেলে তাদের ওপর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে স্বীকার করেছে মাসুদ। তার কথায়, নিয়ম ভাঙার অপরাধে তাকে ও আরও কয়েকজন মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গিকে এর পরে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছিল। এমনকি রুটিন কাজকর্মেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল।
মাসুদ আজহারের দাবি, বন্দি দশার ওই ক’দিন ছিল দুর্বিষহ। সেই দিনের স্মৃতি আজও তাকে তাড়া করে বেড়ায় এবং সে এখনও জেল কর্তৃপক্ষকে ভয় পায়।
উল্লেখ্য, কুখ্যাত সন্ত্রাসী মাসুদ আজহার ১৯৯৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভুয়ো পরিচয়পত্র নিয়ে ভারতে আসে। সেই বছরই তাকে অনন্তনাগে গ্রেফতার করা হয় এবং ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত সে কোট ভালওয়াল কারাগারে বন্দী ছিল। অবশেষে ১৯৯৯ সালে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট আইসি-৮১৪ ছিনতাই করে জঙ্গিরা তাকে ছাড়িয়ে নেয়। এর পর তার নেতৃত্বেই ভারতে একাধিক বড় মাপের সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে।