“আগামী ৬ জানুয়ারি কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন ডিকে শিবকুমার!”, সিদ্দারামাইয়া-শিবকুমার কোন্দলের মধ্যেই বিস্ফোরক দাবি কংগ্রেস বিধায়কের

কর্ণাটকে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি নিয়ে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এবং উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ ফের চরম আকার ধারণ করেছে। আড়াই বছর অন্তর পালাবদলের জল্পনার মধ্যে চরম ধন্দ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে বিষয়টি মীমাংসার জন্য নতুন দিল্লি পর্যন্ত পৌঁছেছে। এই ডামাডোলের মধ্যে চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন শিবকুমার ঘনিষ্ঠ কংগ্রেস বিধায়ক এইচএ ইকবাল হোসেন।
শিবকুমার ঘনিষ্ঠ বিধায়কের বিস্ফোরক দাবি:
সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে রামনগরের বিধায়ক ইকবাল হোসেন বলেন, “আমি ৯৯ শতাংশ নিশ্চিত আগামী ৬ জানুয়ারি মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন শিবকুমার।” ৬ জানুয়ারিতেই কেন, এমন প্রশ্নে তিনি তারিখটিকে ‘একটি সংখ্যা মাত্র’ বললেও, ডিকে শিবকুমারের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল বলেই মনে করছেন তাঁর কট্টর সমর্থক এই বিধায়ক।
বিজেপির প্রতিক্রিয়া ও নতুন সমর্থন:
অন্যদিকে, এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন রেল প্রতিমন্ত্রী তথা বিজেপি সাংসদ ভি. সোমান্না। তিনি বলেন, কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তিনি বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি পরমেশ্বরকে সমর্থন করছেন। তুমাকুরুতে এক অনুষ্ঠানে সোমান্না বলেন, “ক্ষমতা পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। আমি কখনও স্বপ্নেও ভাবিনি যে পরমেশ্বর শুধুমাত্র স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবেই থাকবেন। তাঁকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমাদের দেখার ইচ্ছা।”
ডিকে শিবকুমার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটা গৌণ বিষয়। শিবকুমার কী হবেন তা তার ভাগ্যের উপর নির্ভর করবে। ভাগ্যের চেয়েও ব্যবহার বড়।”
দিল্লিতে চূড়ান্ত বৈঠক:
সূত্রের খবর, কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া এবং উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারের আজ, ১৪ ডিসেম্বর দিল্লিতে কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করার কথা রয়েছে। অভ্যন্তরীণ বিভেদ নিয়ে তাঁদের সঙ্গে কথা বলার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দুই বছর আগে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে কংগ্রেস কর্ণাটকে ক্ষমতায় ফিরেছিল। শোনা যায়, সেই সময় ঠিক হয়েছিল দুই নেতা আড়াই বছর করে মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকবেন। সেই আড়াই বছর পূর্ণ হতেই সিদ্দারামাইয়া সরতে রাজি না হওয়ায় এই কোন্দল শুরু হয়েছে। সকলেই একবাক্যে মেনে নেন, ক্ষমতায় ফিরে আসার পিছনে শিবকুমারের ভূমিকা ছিল অন্যতম।