মেসি-বিশৃঙ্খলার নেপথ্যে কোন ‘বড় মাথা’? ধৃত শতদ্রু দত্ত, যুবভারতীতে মুখ্যসচিব-স্বরাষ্ট্রসচিবের তদন্ত

শনিবার কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসিকে (Lionel Messi) ঘিরে যে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়, তা গোটা বিশ্বের কাছে শহর কলকাতার মাথা হেঁট করাতে বাধ্য। মোটা অঙ্কের টাকা খরচ করে টিকিট কেটেও বিশ্ব ফুটবলের ম্যাজিশিয়ানকে স্বচক্ষে দেখা থেকে বঞ্চিত হন হাজার হাজার ফুটবলপ্রেমী জনতা। হতাশ দর্শকরা তারপর স্টেডিয়ামে ভাঙচুর শুরু করেন এবং চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়।
আয়োজকদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত অব্যবস্থার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, আয়োজকদের পরিচিত কিংবা আত্মীয়-স্বজনরা জোর করে ছবি তোলার চেষ্টা করতে থাকেন এবং মৌচাকের মতো মেসিকে ঘিরে ধরেন। ফলস্বরূপ, গ্যালারি থেকে মেসিকে দেখাই যায়নি।
শীর্ষ প্রশাসনিক তদন্ত:
এই ঘটনার পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তদন্তের নির্দেশ দেন। সেই মোতাবেক রবিবার সকালে যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে পৌঁছে যান রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ এবং স্বরাষ্ট্রসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী। তাদের সঙ্গে অন্যান্য আধিকারিকরা পুরো ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন এবং স্টেডিয়ামের একাধিক দিক খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পর্যবেক্ষণ করেন।
আয়োজক গ্রেফতার, নজর বিগ ফিশের দিকে:
এদিকে, ইভেন্টের প্রধান উদ্যোক্তা তথা স্পোর্টস প্রোমোটার শতদ্রু দত্তকে পুলিশ গতকালই বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে। রবিবারই তাঁকে বিধাননগর মহকুমা আদালতে হাজির করানো হবে। খবর অনুযায়ী, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার অন্তত ৮টি ধারায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলা রুজু করা হয়েছে। যদিও প্রশ্ন উঠছে, এই বিশৃঙ্খলার জন্য শুধু শতদ্রু দত্ত একাই দায়ী, নাকি এর নেপথ্যে আরও বড় কোনও মাথা জড়িত রয়েছে?
অপরদিকে, যুবভারতী স্টেডিয়াম পরিদর্শনে যাবেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসও। দুপুর ১২টার পর রাজভবন থেকে সল্টলেকের দিকে যাওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। এই শীর্ষ পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পরিদর্শনে স্পষ্ট যে, মেসি-কাণ্ডের পর সরকার এই ঘটনাকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে।