মেসি সফরের ‘বিশাল বিতর্ক’, টিকিটের দামে বঞ্চিত অনুরাগীরা, রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট চাইলেন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস

বিশ্ব ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসির কলকাতা সফরকে ঘিরে শহরে যেমন উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল, তেমনই টিকিটের বিপুল দাম এবং অব্যবস্থা নিয়ে বড় বিতর্ক শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস রাজ্য সরকারের কাছে এই সফরের বিশদ রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন।

শনিবার ভোরে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে দিয়ে কলকাতায় পা রাখেন লিওনেল মেসি। তাঁর সঙ্গে এসেছেন দীর্ঘদিনের সতীর্থ লুইস সুয়ারেজ এবং রদ্রিগো ডি পল। তবে এই উৎসবের আবহেই শুরু হয় বিতর্ক। বহু ফুটবলপ্রেমী রাজ্যপালের কাছে অভিযোগ করেছেন যে, টিকিটের দাম ‘অনেক বেশি’ হওয়ার কারণে তাঁরা প্রিয় তারকাকে দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

রাজ্যপালের ক্ষোভ ও প্রশ্ন:

লোকাল ভবনের এক আধিকারিক সংবাদ সংস্থাকে জানান, একের পর এক ফোন ও মেল আসার পরই রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস রাজ্য সরকারের কাছে একটি বিশদ রিপোর্ট চেয়ে চিঠি দিয়েছেন। রাজ্যপাল এই সফরে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর প্রধান জিজ্ঞাসা— সাধারণ মানুষের আবেগের সুযোগ নিয়ে কেন একজন বেসরকারি ব্যক্তিকে অর্থ উপার্জনের অনুমতি দেওয়া হল?

এছাড়াও রাজ্যপাল জানতে চেয়েছেন, মেসির মতো বিশ্ব তারকা শহরে থাকা সত্ত্বেও কেন শুধুমাত্র অনেক বেশি দাম দিয়ে টিকিট কেনা অল্প কয়েকজন মানুষই তাঁকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন।

যুবভারতীতে চরম বিশৃঙ্খলা:

টিকিটের দামের পাশাপাশি চরম অব্যবস্থা দেখা যায় যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে। মেসি মাঠে ছিলেন মাত্র ২৩ মিনিট। এই স্বল্প সময়ের জন্যও নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে এমনভাবে ঘিরে রেখেছিলেন যে গ্যালারি থেকে দর্শকরা এক পলকের জন্যও তাঁকে ঠিকভাবে দেখতে পাননি।

এরপরই ক্ষুব্ধ দর্শকরা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যান। হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও তারকাকে দেখতে না পেয়ে গ্যালারি থেকে বোতল ছোড়া হয় এবং হোর্ডিং ছেঁড়া হয়। এমনকি জনৈক মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে লক্ষ্য করেও বোতল ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যেও সেলফি তোলার হিড়িক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। সব মিলিয়ে, মেসির কলকাতা সফর একদিকে যেমন উন্মাদনা তৈরি করেছে, অন্যদিকে তেমনই অব্যবস্থা, বিপুল টিকিটের দাম এবং সরকারি ভূমিকা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।