পটচিত্রে নারী শক্তির জয়গান, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাতে রাষ্ট্রীয় সম্মান পেলেন পিংলার শিল্পী রূপবান চিত্রকর

পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা ব্লকের নয়া গ্রাম বংশপরম্পরায় পটচিত্রশিল্পীদের জন্য বিখ্যাত। এই গ্রামের শিল্পীরা সকাল থেকে ভেষজ রঙ ব্যবহার করে কাগজের উপর বিভিন্ন চিত্র ফুটিয়ে তোলেন এবং তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গানও বাঁধেন। সম্প্রতি নয়ার এই শিল্পকে বিশ্ব দরবারে নতুন করে তুলে ধরেছেন পটচিত্রশিল্পী রূপবান চিত্রকর।

রাষ্ট্রপতির হাত থেকে সম্মান: রূপবান চিত্রকর তাঁর পটচিত্রের মাধ্যমে মাতৃশক্তির বিকাশ ও সম্ভাবনাকে ফুটিয়ে তুলেছেন, যার ফলস্বরূপ তিনি ২০২৪ সালের রাষ্ট্রীয় হস্তশিল্প পুরস্কার পেয়েছেন। দিল্লিতে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ২০২৩ এবং ২০২৪ সালের কৃতিদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন। বাংলা থেকে একমাত্র রূপবানই এই সম্মান পেয়েছেন।

আয়-রোজগারের উৎস ও শিল্পশালা: নয়া গ্রামের ঘরে ঘরে প্রতিদিন ছবি আঁকার কাজ চলে। শিল্পীরা কখনও ধর্মীয়, কখনও আবার সচেতনতামূলক পটচিত্র আঁকেন। এককালে এই ছবি এঁকে গান গেয়ে বাড়িতে ভিক্ষাবৃত্তিই ছিল তাঁদের আয়ের উৎস। তবে বর্তমানে এই পটশিল্প বিশ্ব ক্ষেত্রে সমাদৃত। এর আগেও এলাকার তিনজন শিল্পী রাষ্ট্রপতির হাত থেকে বিশেষ সম্মান পেয়েছেন।

রূপবানের বিশেষ কাজ: শিল্পী রূপবান চিত্রকর নিজের বাড়িকে গড়ে তুলেছেন এক শিল্পশালা হিসেবে। তিনি এঁকেছেন চন্ডীমঙ্গলের পট, এবং বিশেষ এক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। মহিলাদের উৎসাহিত করা এবং নারী শক্তিকে সামনে রেখে তাঁর এই পটচিত্র অঙ্কন এবং গান পরিবেশন তাঁকে এই জাতীয় পুরস্কার এনে দিয়েছে। বাড়িতে ফিরতেই খুশির আমেজ ছড়িয়েছে নয়া গ্রাম জুড়ে।