মেসির কাছে ক্ষমা চাইলেন মমতা, বিশৃঙ্খলা নিয়ে গড়লেন তদন্ত কমিটি

ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসিকে ঘিরে কলকাতা শহরে তৈরি হওয়া উন্মাদনা আজ চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা এবং বিতর্কে পরিণত হলো। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অব্যবস্থার জেরে মেসিকে মাঠে দেখতে না পেয়ে দর্শকদের ক্ষোভ, ভাঙচুর ও আগুন লাগানোর ঘটনায় এবার নড়েচড়ে বসল কেন্দ্র।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক রিপোর্ট তলব করল
যুবভারতীতে কেন এমন চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হলো এবং আয়োজনের কী ত্রুটি ছিল—তা জানতে চেয়ে রাজ্যপালের কাছে রিপোর্ট চাইল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। এই ঘটনা এখন শুধু খেলার ইভেন্ট নয়, রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষমা প্রার্থনা
যুবভারতীর অব্যবস্থায় গভীরভাবে মর্মাহত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দ্রুত এক্স (পূর্বের ট্যুইটার) হ্যান্ডেলে পোস্ট করে ক্ষমা চেয়েছেন।
তিনি লেখেন: “আজ সল্টলেক স্টেডিয়ামে যে অব্যবস্থাপনা দেখা গেছে তাতে আমি গভীরভাবে মর্মাহত। হাজার হাজার ক্রীড়াপ্রেমী এবং ভক্তদের সঙ্গে আমিও অনুষ্ঠানে যোগ দিতে স্টেডিয়ামে যাচ্ছিলাম, যারা তাদের প্রিয় ফুটবলার লিওনেল মেসির এক ঝলক দেখার জন্য জড়ো হয়েছিল। এই ঘটনার জন্য আমি লিওনেল মেসির কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। সেইসঙ্গে সমস্ত ক্রীড়াপ্রেমী এবং তার ভক্তদের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি।“
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, যুবভারতী স্টেডিয়ামে বিশৃঙ্খলার কারণ অনুসন্ধানের জন্য অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীম কুমার রায়ের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে অতিরিক্ত মুখ্যসচিব এবং স্বরাষ্ট্র দফতরের সদস্যরাও থাকবেন।
অনুষ্ঠান বাতিল, জনরোষ
হাজার হাজার টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও মেসিকে ঠিকমতো দেখতে না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ জনতা মাঠে আগুন ধরায়, চেয়ার উপড়ে ফেলে এবং ভাঙচুর চালায়। তীব্র উত্তেজনার জেরে ফ্রেন্ডলি ম্যাচ-সহ অনুষ্ঠানের বহু পর্ব রদ করতে হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিরাট পুলিশ ও র্যাফ (RAF) মোতায়েন করা হয়। বিশৃঙ্খলার কারণে শাহরুখ খান এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি। ক্ষুব্ধ দর্শকরা প্রশাসনের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন।