মানসিক অত্যাচারে আর কাজ নয়, SIR-এর ‘শেষ পর্যায়ে’ নতুন দায়িত্বের প্রতিবাদে বিডিও অফিসের সামনে বিএলও-দের বিক্ষোভ

ভোটার তালিকা সংশোধনের বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে হলেও, বারবার নতুন কাজ চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে এবং ‘অমানবিক মানসিক অত্যাচার’-এর অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখালেন পশ্চিম বর্ধমানের সালানপুর ব্লকের একাংশ বুথ লেভেল অফিসার (BLO)। তাঁরা আর নতুন করে কোনও দায়িত্ব নিতে পারবেন না—এই দাবিতে বিডিও অফিসের সামনে অবস্থান-বিক্ষোভ করেন।
বিএলও-দের মূল অভিযোগ:
গত ৪ নভেম্বর থেকে SIR-এর কাজ শুরু হওয়ার পর প্রথমে ভোটারদের বাড়ি-বাড়ি ফর্ম পৌঁছে দেওয়া এবং সংগ্রহ করার কাজ করেন বিএলও-রা। এরপর আসে সংগৃহীত ফর্মের তথ্য বিএলও অ্যাপে ডিজিটাইজড করার নির্দেশ। এই কাজগুলি শেষ হওয়ার পর বর্তমানে বিএলও-দের অভিযোগ, বেশ কিছু ভোটারের ফর্ম আবার নতুন করে পরীক্ষা করা এবং তাঁদের নথি সংগ্রহ করার নির্দেশ আসছে।
বিক্ষোভকারী বিএলও চন্দনা সাহা বলেন, “আমাদের প্রথমে ফর্ম দেওয়া এবং জমা নেওয়ার কথা ছিল। সেই কাজ করার পরে ডিজিটাইজেশন করতে বলা হয়েছে। এখন প্রতিদিনই অ্যাপে নতুন-নতুন আপডেট আসছে। আমরা এক মাস ধরে ভালো করে ঘুমোতে, খেতে পর্যন্ত পারিনি। আর আমাদের নতুন করে কোনও দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব নয়।”
আরেক বিএলও পূর্ণচন্দ্র মাজি বলেন, “আমরা যা করার করে দিয়েছি। কিন্তু, তারপরেও নতুন করে আবার ভোটারদের কাছে গিয়ে নথি সংগ্রহ কিংবা তালিকা মিলিয়ে দেখা, এমন নানান নির্দেশিকা আসছে। সময় দেওয়া হচ্ছে খুব কম। ফলে এই সময়ের মধ্যে আর চাপ নেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।”
বিডিও-র প্রতিক্রিয়া:
বিএলও-দের বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে সালানপুরের বিডিও দেবাঞ্জন বিশ্বাস জানান, “নির্বাচন কমিশন যে রকমভাবে নির্দেশিকা দিচ্ছে, আমরা সেটাই বিএলও-দের জানাচ্ছি। এক্ষেত্রে বিডিও হিসেবে আমার খুব একটা বিশেষ কিছু করার নেই। তবুও, বিএলও-দের সঙ্গে আলোচনা করব। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সূত্র বের করে নিয়ে আসতে হবে।”
বারবার নতুন কাজের নির্দেশিকা এবং বিএলও অ্যাপের নিত্যনতুন আপডেটের ফলে এই বিপুল সংখ্যক ভোটকর্মীরা যে চরম মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।