সিঙ্গল মাদার হয়ে বিশ্বমঞ্চে বাজিমাত! ‘মিসেস কুইন’ দেবযানীর মুকুটে নতুন পালক, ‘ওমেন অফ দ্য ইউনিভার্স’-এ ফোর্থ রানার আপ

ভিডিও জকি হিসেবে বিনোদন জগতে পা রাখা দেবযানী গুহ এবার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে নিজের দেশকে গৌরবান্বিত করলেন। সঞ্চালনা, গান ও ভরতনাট্যম নৃত্যে পারদর্শী দেবযানী সম্প্রতি ‘মিসেস ইন্ডিয়া কুইন অফ সাবস্ট্যান্স’ খেতাব জেতার পর নিজেকে নিয়ে গেলেন বিশ্বমঞ্চে।
এরপর তিনি ‘ওমেন অফ দ্য ইউনিভার্স ২০২৫’ নামক আন্তর্জাতিক বিউটি পেজেন্টে অংশ নেন। সেখানে তিনি ফোর্থ রানার আপ হিসেবে কোয়ালিফাই করেন। এই প্রতিযোগিতায় দেবযানী সেরা ‘শৈল্পিক জাতীয় পোশাক’ এবং ‘ই-ভোট বিজয়ী’-এর খেতাবও অর্জন করেন, যা ভারতকে বিশ্ব দরবারে গর্বিত করেছে।
ছেলের অনুপ্রেরণায় লড়াই:
দেবযানী গুহ সিঙ্গল মাদার। তাঁর ১৭ বছরের ছেলেই তাঁর সব কাজের অদম্য অনুপ্রেরণা। আন্তর্জাতিক মঞ্চে মায়ের এই সাফল্যের খবর শুনে ছেলের খুশি বাঁধনহারা। ইটিভি ভারতকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দেবযানী জানান, “সমাজটা একুশ শতকের হলেও আমাদের মন মানসিকতা অতটা এগিয়ে যায়নি। ডিভোর্সি মেয়ের দিকে সমাজ এখনও বাঁকা চোখে শ্যেনদৃষ্টিতে তাকায়। আমার একরত্তি ছেলেটাকেও সেদিন লোকের বাঁকা চোখ ছাড়ত না।”
এই জেদ থেকেই তিনি সমাজকে কিছু দিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। বিউটি পেজেন্টে যাওয়ার সাহস দেখিয়েছেন ছেলের অনুপ্রেরণাতেই। তিনি বলেন, “ক্রাউনটা যখন মাথায় উঠল, জীবনের সব সমস্যা, খারাপ লাগাগুলো এক লহমায় বিলীন হয়ে গিয়েছিল। মা-বাবা এবং একান্নবর্তী পরিবারেরও অসম্ভব সমর্থন ছিল আমার এই জার্নিতে।”
বিউটি পেজেন্টে যাওয়ার টিপস ও গ্রুমিং:
বিউটি পেজেন্টে আগ্রহী ছেলেমেয়েদের জন্য দেবযানী সাক্ষাৎকারে প্রস্তুতির টিপস দেন। কীভাবে খেতে হবে, বসতে হবে বা কীভাবে চামচ ধরতে হবে— সবই দেখান তিনি। বর্তমানে তিনি নিজেও এমন আগ্রহী ছেলেমেয়েদের গ্রুমিং করাচ্ছেন বলে জানান।
বিদেশে অপ্রীতিকর ঘটনার সম্মুখীন হওয়ার প্রসঙ্গে দেবযানী বলেন, সেভাবে কিছু হয়নি, তবে এমন কিছু হলেও তাঁর আফসোস থাকত না। কারণ, তাঁর এতদিনের স্বপ্নপূরণ হয়েছে এবং যে সব মুহূর্ত তিনি আন্তর্জাতিক মঞ্চ থেকে নিয়ে ফিরেছেন, তার কাছে খারাপ ব্যবহার বা এই জাতীয় কিছু তুচ্ছ মনে হবে।