“আমরা কি CBI অফিসার?” ফের যাচাইয়ের নির্দেশে ক্ষুব্ধ বিএলওরা, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে টাকা তোলার অভিযোগ!

ভোটার তালিকার এনুমারেশন পর্ব শেষ হওয়ার দিনেও রাজ্যে তীব্র উত্তেজনা। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিত সন্দেহজনক ভোটারের তালিকা পুনরায় যাচাইয়ের নির্দেশের প্রতিবাদে বীরভূমের সিউড়ি ও দুবরাজপুরে বিক্ষোভ দেখালেন বুথ লেভেল অফিসারদের (BLOs) একাংশ।
এক মাস আট দিন ধরে চলা ‘এসআইআর’-এর (সার্ভে অব ইন্টেলিজেন্ট রেসপন্সেস) ফর্ম জমা দেওয়ার কাজ বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে। তবে শেষ দিনেও বিএলওদের অভিযোগ ছিল, কমিশন শেষ মুহূর্তে ‘বিএলও অ্যাপে’ নানা রকম পরিবর্তন করায় তাঁদের সমস্যায় পড়তে হয়েছে।
বিএলওদের ক্ষোভ: ‘আমরা কি সিবিআই অফিসার?’
আপলোড করা ভোটারদের কিছু তথ্য পুনরায় যাচাইয়ের নির্দেশের বিরোধিতা করে বিক্ষোভকারী এক বিএলও বলেন, “প্রত্যেকদিন প্রায় কয়েক হাজার ফোন করতে হয়েছে। এখন দেখা যাচ্ছে, আমাদের নাম করে কিছু অসাধু ব্যক্তি তাঁদের কাছে ফোন করে ওটিপি নিয়ে টাকা ব্যাঙ্ক থেকে তুলে নিচ্ছে। তার দায় আমাদের ঘাড়ে এসে পড়ছে।”
অপর এক বিএলও তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নিজের সত্ত্বাটাকেই ভুলে গিয়েছি। আমরা যে প্রাইমারি স্কুলের মাস্টার, এই সত্ত্বাটা আমরা ভুলে গিয়েছি। কোনও সময় নিজেকে সিবিআই অফিসার মনে হচ্ছে, কোনও সময় সিআইডি।” তাঁরা অভিযোগ করেন, একবার যাচাই করার পর আবার যদি বাড়ি যেতে হয়, তবে এই কাজ ছয় মাস লেগে যাবে।
মমতার হুঁশিয়ারি: ‘ধর্না দিয়ে বসে থাকব’
অন্যদিকে, এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে কৃষ্ণনগরের সভা থেকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ১৬ ডিসেম্বর, অর্থাৎ মঙ্গলবার, খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে। এর আগে মুখ্যমন্ত্রীর চরম হুঁশিয়ারি:
ধর্নার হুঁশিয়ারি: “কারও নাম বাদ দিলে ধর্না দিয়ে বসে থাকব। যতক্ষণ পর্যন্ত ধর্না দেবেন, আপনাদের নাম না তুলবে।”
বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণ: তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, “দেখছি বিজেপির দালাল হয়ে গেছে। এরা জানে না বিজেপি চিরকাল ক্ষমতায় থাকবে না। ’২৯ কেন, ’২৯-এর আগেই উল্টাবে, ’২৯ পর্যন্ত দিল্লিতে ওদের যেতে হবে না।”
এদিন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল ২৫টি সংস্থার আধিকারিকদের সঙ্গে বৈশেষ বৈঠক করেন। সবমিলিয়ে, খসড়া তালিকা প্রকাশের আগে রাজ্যজুড়ে ভোটার তালিকা নিয়ে চরম রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে।