বড় মেয়ে ‘বন্দে মাতরম’ গানটি পছন্দ করেননি, জেনেনিন তখন কী বলেছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র?

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের অমর সৃষ্টি ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে যখন দেশজুড়ে আলোচনা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় ‘অ্যাজেন্ডা আজতক’-এর মঞ্চে এসে ঐতিহাসিক এই সঙ্গীত রচনার নেপথ্যের বহু অজানা কাহিনি উন্মোচন করলেন সাহিত্য সম্রাটের পরিবারের পঞ্চম প্রজন্মের দুই সদস্য—সজল চট্টোপাধ্যায় ও জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়।
‘বন্দে মাতরম’ লেখার প্রেক্ষাপট, উপন্যাসে এর অন্তর্ভুক্তি এবং পারিবারিক স্মৃতি নিয়ে তাঁরা দর্শকদের সামনে তুলে ধরেন এক নতুন চিত্র।
মেয়ে বললেন, ‘এটা কেউ পড়বে না, তুমি অসম্মানিত হবে’
এদিনের অনুষ্ঠানে সজল চট্টোপাধ্যায় জানান, পরিবারে প্রবীণ সদস্যদের কাছ থেকে ‘বন্দে মাতরম’ রচনার যে গল্প তিনি শুনেছিলেন, তা বেশ চমকপ্রদ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বঙ্কিমচন্দ্র এই গানটি লেখার পর প্রথম দেখিয়েছিলেন তাঁর বড় মেয়ে শরৎকুমারীকে। কিন্তু মেয়ের প্রতিক্রিয়া ছিল সম্পূর্ণ নেতিবাচক।
সজল চট্টোপাধ্যায় বলেন, “বঙ্কিমবাবুকে নিয়ে এই গানটি শুনেছিলাম বাড়ি থেকে। উনি এটি লেখার পর প্রথম দেখিয়েছিলেন বড় মেয়ে শরৎকুমারীকে। তবে তাঁর এটা পছন্দ হয়নি। তিনি গান লেখা সেই কাগজ ফেলেও দিয়েছিলেন।”
কেন পাণ্ডুলিপি ফেলে দেওয়া হলো? বাবার প্রশ্নের উত্তরে শরৎকুমারী জানিয়েছিলেন, “তুমি যেটা লিখেছ সেটা কেউ পড়বে না। ওটা অকেজো। ওটার জন্য তুমি অসম্মানিত হতে পারো।”
বঙ্কিমের সেই আত্মবিশ্বাসী ভবিষ্যদ্বাণী
মেয়ের বিরূপ প্রতিক্রিয়ার পরও ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র। সেই সময়ই তিনি তাঁর বড় মেয়েকে বলেছিলেন এক ঐতিহাসিক কথা, যা আজ সত্যে পরিণত হয়েছে। সজল চট্টোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণায় সেই মন্তব্যটি ছিল—
“আমরা যখন চলে যাব, একদিন মানুষ এটা নিয়ে কথা বলবে। বলবে, বঙ্কিমবাবু কী লিখেছেন!”
‘দেশের চেয়ে বড় কেউ নয়’: জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়
অন্যদিকে, লেখকের আর এক আত্মীয় জয়দীপ চট্টোপাধ্যায় ‘বন্দে মাতরম’-এর গুরুত্ব ও শক্তি নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকে এই গানের প্রশংসা শুনেই তাঁরা বড় হয়েছেন।
জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, “একবার ভাবুন, বঙ্কিমবাবু আমাদের শিখিয়েছিলেন, দেশের চেয়ে বড় কেউ নয়। দেশ আমাদের অস্তিত্বের একটি নাম।”
তিনি আরও যোগ করেন যে এই গানের শক্তি ছিল অকল্পনীয়। ব্রিটিশ শাসনে ফাঁসির মঞ্চে যখন বিপ্লবীরা মৃত্যুর মুখোমুখি হতেন, তখন তাঁদের ঠোঁটে কোনো দুঃখের রেশ থাকত না, থাকত কেবল ‘বন্দে মাতরম’। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ভারতীয় ঐতিহ্য অনুসারে মা হলেন সর্বশ্রেষ্ঠ এবং বঙ্কিমচন্দ্রই এই দেশকে মা হিসাবে বিবেচনা করতে শিখিয়েছিলেন।