নাবালিকার সম্মতি আইনত গ্রহণযোগ্য নয়, পকসো মামলায় যাবজ্জীবন সাজা বহাল রাখল কলকাতা হাইকোর্ট।

প্রেমের সম্পর্কে একজন নাবালিকার দেওয়া সহবাসের সম্মতি আইনত গ্রহণযোগ্য নয়—এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করে পকসো (POCSO) আইনে নিম্ন আদালতের দেওয়া যাবজ্জীবন সাজার বিরুদ্ধে করা আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি রাজাশেখর মন্থা এবং বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে।

মামলার প্রেক্ষাপট ও সাজা
কোর্টের খবর অনুসারে, ২০১৪ সালে ২৩ বছরের এক তরুণের সঙ্গে ১২ বছরের এক নাবালিকা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। সেই সম্পর্কের অছিলায় এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তরুণ একাধিকবার নাবালিকার সঙ্গে সহবাস করেন। পরবর্তীতে নাবালিকা গর্ভবতী হয়ে পড়লে তরুণ বিয়েতে রাজি হননি।

মামলা: ২০১৭ সালে নির্যাতিতার পরিবার তরুণের বিরুদ্ধে নারকেলডাঙা থানায় পকসো ধারায় অভিযোগ দায়ের করে।

নিম্ন আদালতের রায়: নাবালিকাকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে তরুণকে যাবজ্জীবন সাজা দেয় নিম্ন আদালত। হাইকোর্ট নিম্ন আদালতের সেই নির্দেশ বহাল রেখেছে।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ও ক্ষতিপূরণ বৃদ্ধি
দোষী সাব্যস্ত তরুণের আইনজীবীরা নির্যাতিতার বয়সের প্রমাণ, ডিএনএ রিপোর্টের নির্দিষ্টতা এবং দেরিতে অভিযোগ দায়ের নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে ডিভিশন বেঞ্চ তাঁদের সব যুক্তি খারিজ করে দিয়েছে।

নাবালিকার সম্মতি: হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, নাবালিকার দেওয়া সহবাসের সম্মতি আইনত গ্রহণযোগ্য নয়। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেওয়ায় তরুণের উপর বিশ্বাস করেছিলেন নাবালিকা, তাই গর্ভবতী হয়ে পড়ার পর পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়।

প্রমাণের বৈধতা: ডিএনএ রিপোর্টে তরুণ যে সন্তানের বাবা নয়, সেই কথাও বলা হয়নি। নির্যাতিতার জন্ম সংক্রান্ত নথিতে বয়সের বিষয়ে নির্দিষ্ট প্রমাণ রয়েছে এবং বয়ানের সাথে মেডিক্যাল রিপোর্টেও মিল পাওয়া গেছে।

আদালত এই মামলায় নির্যাতিতার ক্ষতিপূরণের পরিমাণ বৃদ্ধি করেছে।

আগে অভিযুক্তকে ২ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছিল নিম্ন আদালত, যার মধ্যে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা নির্যাতিতা পেতেন (বাকি ২০ হাজার টাকা রাজ্য দিত)।

হাইকোর্ট এই নির্দেশ বহাল রাখার পাশাপাশি স্টেট লিগ্যাল সার্ভিসেস অথরিটিকে অতিরিক্ত ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

মোট ক্ষতিপূরণ: এর ফলে নির্যাতিতা মোট ৪ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবেন। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই অর্থ নির্যাতিতাকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।