ভারতের অর্থনীতিতে অ্যামাজনের বিরাট ভরসা, আগামী ৫ বছরে আরও $৩৫ বিলিয়ন (৩১ লক্ষ কোটি টাকা) বিনিয়োগের ঘোষণা

বিশ্বজুড়ে একাধিক বৃহৎ সংস্থার বিনিয়োগের ধারা বজায় রেখে এবার ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজন (Amazon) ভারতে তাদের কার্যক্রম দ্রুত সম্প্রসারণের জন্য আগামী পাঁচ বছরে ৩৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩১ লক্ষ কোটি টাকা) বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। উল্লেখ্য, ২০১০ সাল থেকে কোম্পানিটি ইতিমধ্যেই ভারতে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। এই নতুন বিনিয়োগ মূলত আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) থেকে শুরু করে ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং লজিস্টিক নেটওয়ার্ককে শক্তিশালী করতে ব্যয় করা হবে।

কুইক কমার্সে জোর, লোকসান হ্রাস:

অ্যামাজন এমন এক সময়ে এই বিরাট বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছে যখন দেশের কুইক কমার্স বা ১০ মিনিটের ডেলিভারির বাজার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বিভাগে তারা ব্লিঙ্কিট, সুইগি ইন্সটামার্ট, জেপ্টো, টাটা বিগবাস্কেট এবং ফ্লিপকার্ট মিনিটসের মতো সংস্থাগুলির কাছ থেকে কঠোর প্রতিযোগিতার মুখে রয়েছে। প্রতিযোগিতা সামাল দিতে অ্যামাজন জানিয়েছে যে, তারা বেঙ্গালুরু, দিল্লি-এনসিআর এবং মুম্বাইতে প্রতিদিন ২টি করে নতুন ডার্ক স্টোর যুক্ত করছে এবং বছরের শেষ নাগাদ এই সংখ্যা ৩০০-তে পৌঁছবে।

ইতিবাচক খবর হলো, গত অর্থবর্ষে অ্যামাজনের ভারতীয় ইউনিটগুলি ব্যয় কমিয়ে তাদের লোকসান উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে। কোম্পানির ৪টি প্রধান ইউনিট—অ্যামাজন সেলার সার্ভিসেস, অ্যামাজন ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসেস, অ্যামাজন হোলসেল এবং অ্যামাজন পে—সবকটিই ২০২৫ অর্থবর্ষে লোকসানের ক্ষেত্রে বড় হ্রাসের কথা জানিয়েছে।

AI, ক্লাউড এবং ছোট ব্যবসা:

অ্যামাজনের এসভিপি অমিত আগরওয়াল জানান যে, কোম্পানিটি ভারতের ছোট ব্যবসাগুলিকে ডিজিটালভাবে শক্তিশালী করার জন্য ক্রমাগত বিনিয়োগ করছে। তাঁর মতে, অ্যামাজন দেশে লক্ষ লক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি করেছে এবং আগামী বছরগুলিতে সংস্থাটি ছোট ব্যবসাগুলিতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এবং প্রযুক্তির সুবিধা প্রদানের ওপর মনোনিবেশ করবে।

অ্যামাজন ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতে ১২.৭ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের যে পরিকল্পনা করেছিল, যার মধ্যে তেলেঙ্গানা এবং মহারাষ্ট্রে বৃহৎ আকারের ক্লাউড ও এআই পরিকাঠামো নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত ছিল, এই নতুন ঘোষণার মাধ্যমে সেই বিনিয়োগকে আরও ত্বরান্বিত করা হচ্ছে। এই বিনিয়োগের লক্ষ্য হল, ভারতের ১ কোটি ৫০ লক্ষ ছোট ব্যবসাকে AI-এর সঙ্গে সংযুক্ত হতে সাহায্য করা। মাইক্রোসফ্ট এবং গুগলের মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি সংস্থাগুলিও ভারতে বৃহৎ আকারের AI বিনিয়োগের ঘোষণা করেছে, যা ভারতকে একটি টেক হাব হয়ে ওঠার দিকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে চলেছে।