‘চক্রান্ত চলছে’, সাসপেন্ডেড তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীরের ‘নিরাপত্তারক্ষী বিতর্ক’; লোকাল বাউন্সারদের ‘রিলিজ’ করার দাবি

সাসপেন্ডেড তৃণমূল নেতা হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে নতুন বিতর্ক দানা বেঁধেছে তাঁর ‘নিরাপত্তারক্ষী’দের নিয়ে। গতকাল যে চারজন নিরাপত্তারক্ষীকে তাঁর পাশে দেখা গিয়েছিল, সেই ‘বাউন্সার’দের নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই এবার চক্রান্তের অভিযোগ তুললেন হুমায়ুন কবীর।

বুধবার তিনি দাবি করেন, “ওঁরা সব লোকাল। আমি তো তাঁদের রাখব না। জানতামই না।” বিতর্কিত চারজনকে তিনি ‘রিলিজ’ করে দিয়েছেন বলেও জানান।

অস্ত্র-সহ সিজ হলেন আসল রক্ষীরা:

হুমায়ুন কবীর বলেন, এই বিতর্কের পিছনে অনেক চক্রান্ত চলছে, যার সম্পর্কে তিনি সময়মতো মুখ খুলবেন। তিনি জানান, তাঁর জন্য হায়দরাবাদ থেকে আর্মস-সহ ৮ জন ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী এসেছেন। কিন্তু পরশু সন্ধ্যায় তাঁরা বিমানবন্দরে নামার পর, যে কোম্পানি তাঁদের প্রোভাইড করছে, সেই আর্মসের অথোরাইজেশন বা অনুমোদনের ত্রুটির কারণে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাঁদের আর্মস-সহ সিজ করে রেখেছেন।

তিনি বলেন, “তাঁরা (আসল নিরাপত্তারক্ষীরা) ওখানেই আছেন। আবার ভোরবেলায় লোক পাঠানো হয়েছে হায়দরাবাদে। কোম্পানি থেকে অথোরাইজেশন এনে…।”

চক্রান্তের অভিযোগ:

হুমায়ুন কবীর অভিযোগ করেন, তাঁর প্রকৃত নিরাপত্তারক্ষীরা আটকে থাকার সুযোগ নিয়ে “অন্য চক্র” তাঁর কাছে লোকাল লোকজনকে ‘বাউন্সার’ হিসেবে লাগিয়ে দিয়েছে। তিনি বলেন, “কাল যে চারজনকে শো করলেন, ওঁরা সব লোকাল। আমি শেষ মুহূর্তে এসে দেখলাম, তারপরে যখন খোঁজ নিলাম, তাঁরা বলছেন এখানকার লোকাল। আমি বললাম, লোকাল কাউকে রাখব না।”

তাঁর সংযোজন, “আমি তো তাঁদের রাখব না। আমার কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে। আমি তাঁদের খাইয়ে-দাইয়ে রাতেই বিদায় করে দিয়েছি। জানতামই না। এসব চলছে, চলবে। কারা করছে আপনারা বুঝতে পারছেন না?”

মুর্শিদাবাদ ছাড়িয়ে গোটা রাজ্য জুড়ে ক্ষমতা বাড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন হুমায়ুন কবীর। এই আবহে একদিকে মুর্শিদাবাদের বুকে ‘বাবরি মসজিদ’ তৈরি করা, অন্যদিকে তৃণমূলকে হুঙ্কার ছোঁড়ার মধ্যে তাঁর এই নিরাপত্তা-বিতর্ক নতুন মাত্রা যোগ করল। এর আগে তিনি জীবন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে প্রাইভেট সিকিওরিটির পাশাপাশি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের কাছেও নিরাপত্তা চেয়েছিলেন।