স্বর্ণ ব্যবসায়ী অপহরণ ও খুন, প্রমাণ লোপাট করতে কালো স্করপিও গাড়ি সার্ভিসিংয়ে! নয়া তথ্যে জটিলতা বাড়ল তদন্তে

দত্তাবাদে স্বর্ণ ব্যবসায়ী অপহরণ ও খুনের ঘটনায় তদন্তকারীরা একের পর এক নয়া এবং চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পাচ্ছেন, যা রহস্যকে আরও জটিল করে তুলেছে। গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তরা অপহরণের জন্য যে কালো স্করপিও গাড়িটি ব্যবহার করেছিল, খুনের পরই সেই গাড়িটি তড়িঘড়ি স্থানীয় একটি সার্ভিস সেন্টারে পাঠানো হয়।

তদন্তকারীদের সন্দেহ, গাড়ির মধ্যে থাকা হাতের ছাপ, রক্তের দাগ-সহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্যপ্রমাণ লোপাট করতেই দ্রুত সার্ভিসিং করানো হয়েছিল।

গাড়ির মালিক নিখোঁজ, ফরচুনার উধাও:

স্করপিও গাড়িটির মালিকের ঠিকানা নথিতে দেওয়া আছে হরিদেবপুরের ঠাকুরপুকুর এলাকায়। ঘটনার পর তাঁকে নোটিশ পাঠানো হলেও সেই ঠিকানায় মালিকের কোনও হদিশ মেলেনি। তিনি কি শহর ছেড়েছেন, না গা ঢাকা দিয়েছেন—তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, মালিককে খুঁজে পেলে অপহরণের পরিকল্পনা ও খুনের রুট সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা মিলতে পারে।

অন্যদিকে, খুনের রাতেই অপর একটি ফরচুনার গাড়ি নিয়ে দুই ব্যক্তি উত্তরবঙ্গের দিকে রওনা দিয়েছিলেন বলে পুলিশের তরফে জানা গিয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজে গাড়িটির কিছু অংশ ধরা পড়লেও পরে তার আর কোনও খোঁজ মেলেনি। পুলিশ সীমান্তবর্তী জেলা ও জাতীয় সড়ক ধরে ফরচুনারটির গতিপথ খুঁজে দেখছে। তবে এতদিন বাদেও গাড়ি উদ্ধারে ব্যর্থ হওয়ায় তদন্তে জটিলতা বেড়েছে।

শারীরিক ভাবে বলিষ্ঠ অভিযুক্তের খোঁজ:

গোয়েন্দাদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে যুক্ত দুই অভিযুক্তের মধ্যে একজন শারীরিকভাবে অত্যন্ত বলিষ্ঠ ও প্রভাবশালী। অপহরণের সময় ভিকটিমকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেই ব্যক্তিকেই ব্যবহার করা হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাঁর পরিচয় নিশ্চিতভাবে জানা না-গেলেও বেশ কিছু সন্দেহভাজনের ছবি সংগ্রহ করেছে পুলিশ।

বিধাননগর কমিশনারেটের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত মোট ১৬ জনের বয়ান রেকর্ড করেছেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা। অপহরণের আগের মুহূর্ত, গাড়ির গতিবিধি এবং খুনের পর ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি—সবকিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য হলো ফরচুনার গাড়িটির খোঁজ এবং স্করপিওর প্রকৃত মালিককে শনাক্ত করা। কমিশনারেটের এক আধিকারিক এ বিষয়ে বলেন, “তদন্ত চলছে। এখনই সব কিছু বলা সম্ভব নয়।”