ওয়াকফ ইস্যুতে শুভেন্দুর তোপ! ‘মুসলিমদের বিভ্রান্ত করছেন মুখ্যমন্ত্রী’, সম্পত্তি নথিভুক্তিকরণে দেরি নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ

ওয়াকফ সংশোধনী আইন ও সম্পত্তি নথিভুক্তিকরণ ইস্যুতে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিজেপির রাজ্য দফতরে সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, কেন্দ্রের আইনের বিরোধিতা করে মুখ্যমন্ত্রী মুসলিমদের বিভ্রান্ত করছেন এবং ওয়াকফ সম্পত্তি সময়মতো নথিভুক্ত না করে সংখ্যালঘুদের বিপদে ফেলেছেন।

রাজ্য সরকার শেষ মুহূর্তে কেন্দ্রের ‘উম্মিদ’ পোর্টালে ওয়াকফ সম্পত্তি নথিভুক্ত করার কাজ শুরু করার পরই এই বিতর্ক তুঙ্গে ওঠে।

কেন্দ্রের বৈঠকে রাজ্যের নীরবতা:

শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে ওয়াকফ সংশোধনী আইনের বিরোধিতা করলেও, কেন্দ্রীয় সরকারের আয়োজিত স্টেকহোল্ডার বৈঠকগুলিতে পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিরা সম্পূর্ণ নীরব ছিলেন। বিরোধী দলনেতার বক্তব্য, “লখনউ ও দিল্লির চারটি বৈঠকের মধ্যে দু’টিতে পশ্চিমবঙ্গের অতিরিক্ত সচিব ও সিইও উপস্থিত থেকেও কোনও আপত্তি বা মতবিরোধ নথিভুক্ত করেননি।” তাঁর দাবি, এটি রাজ্য সরকারের দ্বিচারিতা ও রাজনৈতিক ভন্ডামির প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

সময়সীমা পেরোনোর অভিযোগ:

বিরোধী দলনেতা আরও দাবি করেন যে, ‘উম্মিদ’ পোর্টালে নথিভুক্তিকরণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের চিঠি অক্টোবর থেকেই আসতে শুরু করে। সারা দেশ দ্রুত পদক্ষেপ নিলেও পশ্চিমবঙ্গ সরকার কার্যকর পদক্ষেপ করেনি। ফলে ৫ ডিসেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিটে সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় বহু নথি আপলোডই করা যায়নি। শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “গোটা ভারতবর্ষ যখন দ্রুত নথিভুক্তিকরণ সম্পন্ন করল, তখন কেবল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গ পিছিয়ে রইল, আর তার সরাসরি ক্ষতি হবে মুসলিম সম্প্রদায়েরই।” এর ফলে সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিগুলিকে এখন আইনি লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হবে।

হিংসা ছড়ানোর অভিযোগ:

শুভেন্দু অধিকারী আরও বলেন, “ওয়াকফ প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর উস্কানিমূলক বক্তব্য ও তাঁর দলের নেতাদের আগুনঝরা ভাষণই সাম্প্রতিক হিংসার অন্যতম কারণ।” তিনি মুর্শিদাবাদের সামসেরগঞ্জ, ধুলিয়ান ও বেলডাঙা-সহ একাধিক এলাকায় সাম্প্রদায়িক অশান্তি, দোকান লুট ও প্রাণহানির ঘটনার উল্লেখ করে বলেন, “প্রশাসন ঘটনাগুলি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে এবং মুখ্যমন্ত্রী উল্টে মুর্শিদাবাদে গিয়ে উত্তেজনামূলক ভাষণ দিয়েছেন।”

তাঁর দাবি, সুযোগ থাকা সত্ত্বেও রাজ্য সরকার গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় নিজেদের মতামত জানায়নি, যার ফলে আজ বহু ওয়াকফ প্রপার্টি নথিভুক্ত না-হয়ে ঝুলে রয়েছে। তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের ভোটে ক্ষমতায় এসে আজ সেই সংখ্যালঘু সমাজকেই বিপদে ফেলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

Dipak Barman01
  • Dipak Barman01