ক্যামেরার পেছনের ‘খেয়াল’! অবসাদ কাটাতে ফেডারেশনের ঐতিহাসিক উদ্যোগ শুরু, মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের টিমের প্রথম কাজ

বিনোদন জগতের কলাকুশলীদের মানসিক স্বাস্থ্যের দেখভালের জন্য ফেডারেশনের ঐতিহাসিক ‘মানবিক উদ্যোগ’ চালু হলো। গত ৪ ডিসেম্বর এই পদক্ষেপের ঘোষণা করার ঠিক ছয় দিনের মাথায় কথা রাখল ফেডারেশন। দাসানি ২ স্টুডিওতে ‘পরশুরাম’ এবং ‘প্রফেসর বিদ্যা ব্যানার্জি’—এই দুটি ধারাবাহিকের সেট থেকে আজ এই কর্মসূচির শুভ সূচনা হলো।

ইন্সটিটিউট অফ সাইকায়াট্রি-র মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত কলাকুশলীদের মনের কথা শোনেন। এই সময় উপস্থিত ছিলেন ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস, প্রযোজক নিসপাল সিং রানে, সৃজিত রায়, এবং জয় চন্দ্র চন্দ্র-সহ ইন্ডাস্ট্রির অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।

ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস জানান, কলাকুশলীরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাজ করে শারীরিক ও মানসিক ধকলে ভোগেন এবং অনেকে অবসাদে আক্রান্ত হন। তিনি বলেন, “ইন্ডাস্ট্রির ভালোর জন্যই এই উদ্যোগ। ওঁরা সুস্থভাবে কাজ করতে পারলে আখেরে ইন্ডাস্ট্রিরই ভালো হবে। আমরা সাতদিনের মধ্যে শুরু করব বলেছিলাম, ছয় দিনের মাথায় শুরু করতে পারলাম।”

পরিচালক-প্রযোজক সৃজিত রায় ফেডারেশনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, “পারফর্মারদের মানসিক সমস্যা হয় কাজের চাপ থাকা বা কাজ না থাকার মতো নানা কারণে। ক্রিকেট টিমে যেমন সাইকোলজিস্ট থাকেন, তেমনই যে কোনও পারফর্মারেরই পরামর্শ নেওয়া উচিত। অবসাদের কবলে পড়ে আমাদের দুজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ডিওপি নিজেদের জীবন শেষ করে দিয়েছেন। ফেডারেশনের সব উদ্যোগের মধ্যে এটা সেরা।”

অভিনেত্রী জিনা তরফদারও এই উদ্যোগে খুশি প্রকাশ করে জানান, মনের মধ্যে অনেক কথা চেপে রেখে তাঁরা কষ্ট পান, যা এবার থেকে আর করতে হবে না।

এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা প্রতি মাসে তিনদিন বিভিন্ন স্টুডিওতে বসবেন এবং কলাকুশলীদের সমস্যার কথা শুনবেন। এর পাশাপাশি, পরবর্তী চিকিৎসার জন্য তাঁরা পিজি হাসপাতালের ডাক্তারদের কাছ থেকে বিনামূল্যে সহায়তা পাবেন।

Dipak Barman01
  • Dipak Barman01