অশনি সংকেত! দক্ষিণ ভারতের পর এবার পশ্চিমবঙ্গেও, প্রান্তিক দিনমজুরদের শরীরেও বাসা বাঁধছে সুগার-প্রেশার!

দক্ষিণ ভারতে গবেষণায় উঠে আসা তথ্যের পুনরাবৃত্তি এবার দেখা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গেও। চিকিৎসকদের মতে, এতদিন যাঁরা কায়িক পরিশ্রম করতেন, সেই প্রান্তিক এলাকার দরিদ্র ও দিনমজুর শ্রেণির মানুষদের মধ্যেও এখন উচ্চ রক্তচাপ (হাই ব্লাড প্রেসার) এবং রক্তে শর্করার (ব্লাড সুগার) মতো দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) রোগের প্রকোপ বাড়ছে।
আসানসোলের পলাশডিহা অঞ্চলে কেন্দ্রীয় সামাজিক ন্যায়বিচার ও ক্ষমতায়ন মন্ত্রকের উদ্যোগে কলকাতার একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন একটি স্বাস্থ্য শিবিরের আয়োজন করেছিল। এই শিবিরে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকরা এখানে বহু মানুষের মধ্যেই এই ধরনের ক্রনিক রোগের সন্ধান পেয়েছেন।
বয়স্কদের ‘অকালমৃত্যু’ নিয়ে উদ্বেগ:
স্বাস্থ্য শিবিরের এই পর্যবেক্ষণ থেকেই আরও একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। আসানসোলের বিশিষ্ট সমাজসেবী চন্দ্রশেখর কুণ্ডু জানান, ষাটোর্ধ্ব মানুষজনকে খুঁজে বের করে শিবিরে নিয়ে আসার সময় দেখা যায়, যেসব অঞ্চলের শিক্ষার হার কম, সেখানে ষাট বছরের বেশি বয়স্ক মানুষ প্রায় পাওয়াই যাচ্ছে না। তাঁর কথায়, “শিক্ষার সঙ্গে সচেতনতা এবং সুস্থ থাকার একটা যোগসূত্র রয়েছে। শিক্ষা এবং সচেতনতা নেই বলেই এই সমস্ত গ্রামে বেশিদিন মানুষ বাঁচেন না।” তিনি এই বিষয়ে গবেষণার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
বিশিষ্ট চিকিৎসক অরুণাভ সেনগুপ্ত বলেন, “এই ধরনের রোগ সাধারণত কায়িক পরিশ্রম করা মানুষদের স্পর্শ করতে পারত না। কিন্তু এখন জীবনযাত্রা পাল্টে যাওয়ায় দরিদ্রদের মধ্যেও সুগার-প্রেশার বাসা বাঁধছে। এই প্রজন্মকে সচেতনতা বাড়িয়ে বয়স্কদের মধ্যে এই রোগগুলি আটকানোর উদ্যোগ নিতে হবে।”
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুধু স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ওষুধ দেওয়াই নয়, এই সমস্ত মানুষদের সচেতনতার মাধ্যমে মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। এদিকে, গ্রামে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ওষুধ পেয়ে খুশি স্থানীয় দরিদ্র মানুষজন।