SIR ফর্মে অনড় ‘না’! জঙ্গলমহলে ‘মাঝি সরকার’-এর ধোঁকা, ৭৯ জন আদিবাসীর মগজ ধোলাইয়ের অভিযোগ, তুঙ্গে বিতর্ক

বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর এসআইআর (SIR)-এর ফর্ম পূরণের শেষ দিন হলেও, বাঁকুড়ার রানিবাঁধ ব্লকের মুচিকাটা ও ভেদুয়াশোল গ্রামের ৭৯ জন আদিবাসী মানুষ এখনও ফর্ম পূরণ করতে রাজি হননি। তাঁদের দাবি, ‘মাঝি সরকার’-এর পরিচয়পত্র থাকায় ভারতের নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য এই ফর্ম পূরণের প্রয়োজন নেই। এই অনড় মনোভাবের জন্য ওড়িশা থেকে আসা এক বিতর্কিত গোষ্ঠী, ‘সমাজবাদ আন্তঃরাষ্ট্রীয় মাঝি সরকার’–এর প্রতিনিধিদের ওপর ‘মগজ ধোলাই’-এর অভিযোগ উঠেছে।
জঙ্গলমহলের এই ২২টি আদিবাসী পরিবারের ৭৯ জন সদস্যের দাবি, তাঁরা ভারতের আদি বাসিন্দা এবং তাঁদের কাছে ‘মাঝি সরকার’-এর পরিচয়পত্র রয়েছে। অভিযোগ, ওড়িশা থেকে আসা এই গোষ্ঠী গরিব ও অক্ষর-জ্ঞানহীন আদিবাসীদের ভুল বুঝিয়ে এসআইআর ফর্ম পূরণে বাধা দিচ্ছে।
মাঝি সরকারের সঙ্গে বৈঠক:
সম্প্রতি এই ‘মাঝি সরকার’-এর নামে প্রতারণার অভিযোগে ওড়িশার এক বাসিন্দা-সহ তিনজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তবুও দমে না গিয়ে মঙ্গলবার সকালে ‘সমাজবাদ আন্তঃরাষ্ট্রীয় মাঝি সরকার কিষান সৈনিক মহিলা মণ্ডল’-এর প্রতিনিধি গীতা মুর্মু-সহ তিনজন ওড়িশা থেকে রানিবাঁধের মুচিকাটা গ্রামে আসেন। মাঝি সরকারের বিশেষ পোশাক, মাথায় টুপি এবং কাঁধে তীর-ধনুক নিয়ে দীর্ঘ রাত পর্যন্ত চলে তাঁদের বৈঠক। বৈঠক শেষে গ্রামবাসীরা জানান, তাঁরা এসআইআর ফর্ম পূরণ না করার সিদ্ধান্তেই অনড় রয়েছেন।
স্থানীয় বিশিষ্টজনদের অপমান:
অন্যদিকে, আদিবাসী সমাজের স্থানীয় বিশিষ্টজনরা গ্রামবাসীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সচেতন করতে চাইলেও, গ্রামবাসীরা তাঁদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হননি। সারা ভারত লেখক সংগঠনের দক্ষিণ বাঁকুড়া শাখা, ভারত জাকাত মাঝি পারগানা মহল এবং আদিবাসী একতা মঞ্চ-সহ প্রায় ১৫ জন প্রতিনিধি গ্রামবাসীদের কাছে এসআইআর ফর্ম পূরণের গুরুত্ব বোঝাতে গেলে গ্রামবাসীরা তাঁদের আলোচনায় বসতে দেননি।
আদিবাসী একতা মঞ্চের সদস্য বিশ্বনাথ সর্দার অভিযোগ করেন, “আমাদের সমাজের কিছু পিছিয়ে পড়া মানুষ অন্যের কথায় প্ররোচিত হয়ে মগজ ধোলাইয়ের শিকার হয়েছে। তাই তারা শুধু ওড়িশার মাঝি সরকার সংগঠনের কথাই শুনছে। আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে তাঁদের সতর্ক করলাম এবং ফর্ম পূরণের আবেদন জানালাম।” আরেক সদস্য চিতল আবদারের আক্ষেপ, “নিজেদের উদ্যোগে গিয়েও অপমানিত হয়ে ফিরতে হলো – এই আচরণ আদিবাসী সমাজের সংস্কৃতির সঙ্গে মানায় না।”
এখনও পর্যন্ত অনড় থাকা এই ৭৯ জন আদিবাসী ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে ফর্ম পূরণ করেন কিনা, সেদিকেই নজর রয়েছে প্রশাসনের।