কংগ্রেসের তিন প্রজন্মই ভোট চুরি করেছে, নেহরু, ইন্দিরা, সোনিয়াকে নিশানা করে লোকসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ

নির্বাচনী সংস্কার নিয়ে লোকসভায় আলোচনার সময় কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ভোট চুরির দীর্ঘ ঐতিহ্য থাকার গুরুতর অভিযোগ তুললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি সরাসরি দাবি করেন, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু, প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এবং দীর্ঘদিনের কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী—সকলেই বিভিন্ন সময়ে ভোট চুরি করেছেন।
নেহরুর বিরুদ্ধে প্রথম ভোট চুরির অভিযোগ:
অমিত শাহের দাবি, প্রধানমন্ত্রী পদে আসার ক্ষেত্রে জওহরলাল নেহরু প্রথম ভোট চুরি করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য:
“প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ব্যাপারে ২৮ জনের সমর্থন ছিল সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের সঙ্গে। নেহরুর পক্ষে ছিলেন মাত্র দু’জন। এটাই প্রথম ভোট চুরি।”
ইন্দিরা গান্ধীর দ্বিতীয় ভোট চুরির দাবি:
শাহ আরও দাবি করেন, দেশের দ্বিতীয় ভোট চুরি করেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। ১৯৭৫ সালে দেশে জরুরি অবস্থা জারির আগে লোকসভা নির্বাচনে তাঁর জয়ের প্রক্রিয়া নিয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টে মামলা হয়েছিল। আদালতে প্রমাণিত হয় যে ইন্দিরা গান্ধী নির্বাচনের কাজে সরকারি গাড়ি ও রাষ্ট্রযন্ত্রকে কাজে লাগিয়েছিলেন। এর ভিত্তিতে আদালত তাঁর সাংসদ পদের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করে এবং তাঁকে সংসদীয় ভোটদান প্রক্রিয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়।
শাহের অভিযোগ, এরপর ইন্দিরা নিজেই নিজেকে রক্ষাকবচ দিয়েছিলেন। তিনি এই ঘটনাকে “ভারতের দ্বিতীয় ভোট চুরি” বলে আখ্যা দেন।
সোনিয়া গান্ধির বিরুদ্ধে তৃতীয় ভোট চুরির অভিযোগ:
অমিত শাহ সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে দেশের তৃতীয় ভোট চুরির অভিযোগ এনে বলেন, তিনি ভারতের নাগরিক হওয়ার আগেই ভোটার তালিকায় নিজের নাম তুলেছিলেন।
মোদি মন্ত্রিসভার ‘নম্বর টু’-এর এই মন্তব্যটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এর ঠিক একদিন আগেই সোনিয়া গান্ধী তাঁর জন্মদিনে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়ে দিল্লি হাইকোর্টের নোটিশ পেয়েছিলেন।