“বাংলা বাঁচাও” মিশনে সেলিম-মীনাক্ষী, এক দশক পর জনতার দুয়ারে সিপিআইএম; তৃণমূলের সন্ত্রাস ও কর্মসংস্থানহীনতার অভিযোগ সীমান্ত গ্রামে

একদা রাজ্যের শাসক দল সিপিআইএম (CPIM) এখন বিধানসভা ও লোকসভা—উভয় ক্ষেত্রেই শূন্য। সাংগঠনিক দুর্বলতা ও জনবিচ্ছিন্নতার এই ছবি বদলাতে ছাব্বিশের নির্বাচনের আগে রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং যুব নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে শুরু হয়েছে ‘বাংলা বাঁচাও যাত্রা’। গত ২৯ নভেম্বর কোচবিহার থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা বর্তমানে উত্তরবঙ্গ ঘুরে মুর্শিদাবাদে লাগাতার জনসংযোগ চালাচ্ছে।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাগরদিঘি, রানিনগর হয়ে মঙ্গলবার ডোমকল ও জলঙ্গিতে পৌঁছয় এই যাত্রা। মহম্মদ সেলিম-সহ ছাত্র-যুব নেতারা ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে জলঙ্গি বিধানসভার একাধিক পাড়া ও সীমান্ত গ্রাম বারমাসিয়ায় মানুষের দুয়ারে কড়া নাড়েন। তাঁরা মানুষের জীবন-জীবিকার সমস্যা, স্থানীয় ইস্যু এবং দৈনন্দিন জীবনের বেকায়দার খোঁজ নিচ্ছেন।

বারমাসিয়া গ্রামে সেলিম কথা বলেন মাসিদুল ইসলাম, আবু সাঈদ, নাফিজুর সরকার-সহ স্থানীয়দের সঙ্গে। সেখানে সমস্যার ভিডিয়োগ্ৰাফিও করা হয়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ২০১১ সালের পালাবদলের পর এলাকায় “ভয়ংকর সন্ত্রাস” চলেছে এবং তৃণমূলের বিরুদ্ধে “নিয়োজিত পানি কেস, গাঁজা কেস” দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেলিম তৎক্ষণাৎ বলেন যে এখন এসপি-র অনুমতি ছাড়া এই ধরনের মামলা দেওয়া যাবে না, যা হাইকোর্টের রায়ের ফল।

এলাকার প্রধান সমস্যা কর্মসংস্থান। নাফিজুর সরকার বলেন, “একশো দিনের কাজ নেই। কৃষিজীবী এলাকা। আমাদের ঘরের ছেলেমেয়েরা বাইরের রাজ্যে কাজে যাচ্ছেন। সেখানে আবার বাঙালি বলে মার খাচ্ছেন।” ওড়িশার কোরাপুটে কাজ করতে যাওয়া মুকুল মণ্ডল নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরে বলেন, “আগে সমস্যা হয়নি। এখন হচ্ছে। খুব সমস্যা হচ্ছে। বাংলাদেশি বলে আধার চাইছে, ভোটের কার্ড চাইছে।” মাসিদুল ইসলামের অভিযোগ, ১০০ দিনের কাজের টাকা মিলছে না এবং পঞ্চায়েতে টাকা ছাড়া সার্টিফিকেট মেলে না। জলঙ্গির মৎস্যজীবী ও কৃষিজীবীরা বিএসএফের হয়রানি ও জমি মাফিয়াদের অত্যাচারের কথাও তুলে ধরেন।

জনতার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মহম্মদ সেলিম তৃণমূল ও বিজেপিকে এক আসনে বসিয়ে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, “গ্রামে কাজ নেই বলে শহরে যাচ্ছে। তাকে আবার বাংলাদেশি বলছে। এটাই বিজেপির বর্বর রাজনীতি। মমতা বিজেপির মিত্র। আরএসএস নেত্রী। এরা (তৃণমূল-বিজেপি) থাকলে গণতন্ত্র থাকবে না, সংবিধান থাকবে না। তাই বাংলা বাঁচাতে হবে, দেশ বাঁচাতে হবে। তাই লাল ঝান্ডা জোর বাড়াতে হবে।” পাহাড় থেকে সমতল পর্যন্ত এই কর্মসূচি আগামী ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।

Dipak Barman01
  • Dipak Barman01