২২ ডিসেম্বর নতুন দল! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ সাসপেন্ডেড বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের, ‘বাবরি মসজিদ’ নিয়ে তোলপাড়

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য রাজনীতিতে বড় চমক দিতে চলেছেন সাসপেন্ডেড তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। বুধবার তিনি ঘোষণা করলেন, আগামী ২২ ডিসেম্বর তিনি একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করবেন এবং আসন্ন নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রার্থী দেবেন।
এএনআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কবীর দাবি করেন, “আমি ২২ ডিসেম্বর একটি নতুন দল ঘোষণা করব। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের বিরুদ্ধে প্রার্থী দেব। যিনিই মুখ্যমন্ত্রী হন না কেন, তাঁকে হুমায়ুন কবীরের সমর্থন নিয়েই হতে হবে।”
এদিকে, হুমায়ুন কবীর ৬ ডিসেম্বর মুর্শিদাবাদে একটি বাবরি মসজিদ নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন। উপাসনালয় নির্মাণের সাংবিধানিক অধিকারের দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, তিনি অসাংবিধানিক কিছু করছেন না। কবীরের বক্তব্য, “যে কেউ মন্দির বা গির্জা তৈরি করতে পারলে, আমিও পারব।”
মুর্শিদাবাদে এক সমাবেশে তিনি আরও বলেন, “আমি অসাংবিধানিক কিছু করছি না। সুপ্রিম কোর্ট একটি রায় দিয়েছিল যেখানে বলা হয়েছিল যে হিন্দুরা বাবরি মসজিদ ভেঙে দিয়েছে। এখন আমরা দেখছি সাগরদিঘিতে কেউ রাম মন্দিরের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করছে। কিন্তু সংবিধান আমাদের মসজিদ তৈরির অনুমতি দেয়।”
এই পরিস্থিতিতে, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় মেরুকরণ উস্কে দেওয়ার অভিযোগ করেছে। বিজেপির দাবি, মমতা সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে মুসলমানদের মধ্যে মেরুকরণের সুযোগ করে দিচ্ছেন।
বিজেপি আরও প্রশ্ন তুলেছে যে, এর আগে হিন্দুদের হুমকি দিয়ে বিবৃতি দিলেও হুমায়ুন কবীরের সাসপেনশন এত দেরিতে কেন হল। বিজেপি সতর্ক করেছে যে মমতার এই নিষ্ক্রিয়তা রাজ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে।