‘৫০ লক্ষ বাড়তি ভোট’ টার্গেট, ভোটের আগে বিজেপির নতুন কমিটি, ‘অরাজনৈতিক যোগদান’-এর ঘোষণা! যোগ দিলেন অধ্যাপক-ইনস্পেক্টর!

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ১৫ বছরের উন্নয়নের ‘পাঁচালি’কে সামনে রেখে বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচার কৌশল নিয়ে গুরুতর অভিযোগ তুললেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, প্রশাসনের সব স্তরকে ব্যবহার করে শাসকদল এই প্রচারের ব্যবস্থা করেছে।
সোমবার বিজেপির রাজ্য দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, রাজ্যের মুখ্যসচিব মনোজ পন্থের তত্ত্বাবধানেই রাজ্যজুড়ে তৃণমূলের নির্বাচনী প্রচার কর্মসূচি চালানো হবে। তাঁর সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন লকেট চট্টোপাধ্যায়, রাহুল সিনহা প্রমুখ বিজেপি নেতারা।
উন্নয়নের পাঁচালির ‘পর্দাফাঁস’
বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, গত শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সব জেলার জেলাশাসক (DM) এবং বিডিও-দের নির্দেশ দিয়েছেন যেন গত ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের ভালো কাজের প্রচার জেলায়-জেলায় চালানো হয়। সরকারের সমস্ত প্রকল্পের কথা নিবিড়ভাবে সাধারণ মানুষের কাছে তুলে ধরতে বলা হয়েছে।
শুভেন্দুর অভিযোগ, এই নির্দেশে বলা হয়েছে যে ডিএম ও বিডিও-দের এখন থেকে প্রচার সর্বোচ্চস্তরে নিয়ে যেতে হবে। লিফলেট, মাইক ব্যবহার করতে হবে এবং মুখ্যমন্ত্রীর ছবি দেওয়া হোর্ডিং এলাকায় এলাকায় দৃশ্যমান রাখতে হবে। গ্রাম পঞ্চায়েতস্তরে বৈঠকের আয়োজন করতে হবে, যেখানে এলাকার জনপ্রতিনিধি, পঞ্চায়েত সদস্য এবং ন্যূনতম ৫০০ জন গ্রামবাসী (৫০% মহিলা) উপস্থিত থাকবেন। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি দিয়ে বৈঠক করতে হবে।
শুভেন্দু অধিকারী মানুষকে আহ্বান জানান, এই প্রচার কর্মসূচির মিটিংগুলোতে গিয়ে চাকরির তালিকা, বাড়ি/শৌচালয়/জল না পাওয়ার কারণ, শিক্ষার বেহাল দশা, শিল্প তাড়ানো এবং মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়ে সরকারকে প্রশ্ন করতে।
বিজেপিতে যোগদানে কমিটি ও ‘৫০ লক্ষ বাড়তি ভোট’
আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে বিজেপিতে ‘অরাজনৈতিক’ যোগদান প্রক্রিয়াকে আরও সংগঠিত করতে রাজ্যস্তরে একটি নতুন টিম তৈরি করার কথা ঘোষণা করেন শুভেন্দু অধিকারী। এই টিমের নেতৃত্বে রয়েছেন বিজেপির সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায়।
তাঁর দাবি, উত্তরবঙ্গের কোচবিহার থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের মেদিনীপুর-চব্বিশ পরগনা পর্যন্ত কয়েক হাজার পরিবার, বিশেষত আদিবাসী পরিবার, বিজেপিতে যোগদানে আগ্রহী। তিনি জানান, অরাজনৈতিক মানুষ বা যাঁদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই, সেইসব অধ্যাপক, শিক্ষক, ডাক্তার, অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক, কবি-সাহিত্যিক প্রমুখ পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দলের প্রাথমিক সদস্য পদ দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
এই কর্মসূচির লক্ষ্য হল ‘১০ শতাংশ ভোট বাড়ানো’ এবং ‘৫০ লক্ষ বাড়তি ভোট’ বিজেপির পক্ষে আনা। এদিন শুভেন্দু অধিকারী জানান, অধ্যাপক অজয়কুমার দাস, অধ্যাপক সঞ্জীব হাঁসদা এবং পুলিশের ইন্সপেক্টর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া বঙ্কিম বিশ্বাস আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপিতে যোগদান করছেন।