বিপর্যয়ের মূলে ইন্ডিগো! ফ্লাইট বাতিলের দায় সরাসরি সংস্থার ঘাড়েই চাপালেন বিমানমন্ত্রী

লাগাতার ফ্লাইট বাতিলের জেরে কার্যত ভেঙে পড়া ইন্ডিগো-র পরিষেবার জন্য এবার সরাসরি সংস্থাকেই দায়ী করলেন কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী কে রামমোহন নায়ডু। মন্ত্রীর স্পষ্ট বক্তব্য, এই ‘অপারেশনাল মেল্টডাউন’-এর উৎস ইন্ডিগো নিজেই, অন্য কোনও এয়ারলাইনসে এমন অচলাবস্থা দেখা যায়নি। টানা দু’দিন ধরে হাজারেরও বেশি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় যখন বিমানবন্দরে যাত্রী বিক্ষোভ চরমে, সেই পরিস্থিতিতে মন্ত্রকের এই কড়া অবস্থান তাৎপর্যপূর্ণ।

সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিমান পরিবহনমন্ত্রী বলেন, “দোষ কার, তা নিয়ে কোনও সংশয় নেই। সমস্যার উৎস ইন্ডিগো নিজেই। নতুন ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন (এফডিটিএল) নির্দেশিকা ১ নভেম্বর থেকেই কার্যকর হয়েছে। অথচ স্পাইসজেট, এয়ার ইন্ডিয়া, ভিস্তারা—কোনও সংস্থায় এমন সঙ্কট দেখা যায়নি। সমস্যাটা নিয়ম নয়, সমস্যা ইন্ডিগোর ভিতরেই।”

ইন্ডিগোর প্রস্তুতির অভাবকে কাঠগড়ায় তুলে মন্ত্রী আরও বলেন, “আমরা সব এয়ারলাইনকে আগেই জানিয়েছি। এয়ারবাস এ৩২০-এর বিষয়ে ইএএসএ–র নির্দেশ মাত্র এক সপ্তাহে ৩২৩টি বিমানে সম্পন্ন হয়েছে, একটিও সমস্যা ছাড়াই। তাহলে ইন্ডিগোই বা পারল না কেন?” তিনি জানান, দিল্লি, মুম্বই, চেন্নাইয়ে ফ্লাইটের জট অনেকটাই কমেছে এবং আজ রাতের মধ্যেই বাকিগুলিও স্বাভাবিক হবে। ইন্ডিগো আগামিকাল থেকে সীমিত পরিষেবা চালু করে দু’-এক দিনের মধ্যে পূর্ণ ক্ষমতায় ফিরবে।

যাত্রী ভোগান্তির এই ঘটনায় মন্ত্রী কড়া পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “অ্যাকশন ‘হতে পারে’, এ কথা নয়। অ্যাকশন হবেই। এ রকম ঘটনা চলতে দেওয়া যাবে না। যাত্রীই আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার।” তিনি আরও জানান, বিমান মন্ত্রক ইতিমধ্যেই ইন্ডিগো সংস্থার বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখতে বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। কোন স্তরে গলদ এবং কে দায়ী, সবই খতিয়ে দেখা হবে।

প্রসঙ্গত, পাইলট ও ক্রু সদস্যদের জন্য নতুন ডিউটি টাইম লিমিটেশন রুলস কার্যকর হওয়ার পরই চরম পাইলট সঙ্কট দেখা দেয়, যার ফলে শত শত বিমান বাতিল করতে বাধ্য হয় ইন্ডিগো। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শুক্রবার কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন উড়ান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডিজিসিএ সাপ্তাহিক বিশ্রাম সংক্রান্ত শ্রমবিধিতে ছাড় দিলেও, শনিবারও বহু উড়ান বাতিল হতে দেখা যায়।

Saheli Saha
  • Saheli Saha