মালদার আদিনা মসজিদ কি আসলে আদিনাথ মন্দির? রাজ্যসভায় বোমা ফাটালেন শমীক ভট্টাচার্য, দিলেন বড় প্রমাণ!

মালদহের ঐতিহাসিক আদিনা মসজিদকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। তিনি রাজ্যসভায় দাবি করেছেন, এই মসজিদটি আদতে আদিনাথ মন্দির ছিল, যা ধ্বংস করে ইলিয়াস শাহী রাজবংশের সুলতান সিকান্দার শাহ কর্তৃক নির্মাণ করা হয়েছিল। তিনি এই ঐতিহাসিক স্থাপনার হিন্দু স্থাপত্য ও প্রত্নবস্তু সংরক্ষণের জন্য সরকারের কাছে আর্জি জানান।
কেন এমন দাবি করলেন শমীক ভট্টাচার্য?
শমীক ভট্টাচার্য তাঁর দাবির সপক্ষে মসজিদটির স্থাপত্যের মধ্যে পাওয়া বিভিন্ন মোটিফ এবং প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ তুলে ধরেন। তাঁর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, মসজিদের কাঠামো এবং ধ্বংসাবশেষের মধ্যে স্পষ্টত হিন্দু স্থাপত্যের নিদর্শন খুঁজে পাওয়া যায়:
হিন্দু স্থাপত্যের প্রতীক: মসজিদের দেওয়াল ও খিলানগুলিতে ফুল, ঘণ্টা, মালা, মুখমণ্ডল ও কৈলাস প্রতীকের মতো মোটিফ দেখা যায়। এই প্রতীকগুলি মূলত হিন্দু মন্দির স্থাপত্যে ব্যবহৃত হত।
দেবতার উপস্থিতি: তাঁর অভিযোগ, মসজিদটি লুঠেরা সিকান্দার শাহ কর্তৃক আদিনাথ মন্দির ধ্বংস করে তৈরি করা হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, এই স্থানে গণেশ মূর্তি, শিবলিঙ্গ এবং লক্ষ্মী দেবীর মূর্তির মতো হিন্দু দেবতার ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে।
ঐতিহাসিক দলিল: শমীক ভট্টাচার্য উল্লেখ করেন যে ১৮৬৫-১৮৬৭ সালের একজন মালদা সংগ্রাহক এই স্থানটিকে হিন্দু মন্দির হিসাবে নথিভুক্ত করেছিলেন।
সংরক্ষণ ও তদন্তের দাবি:
বিজেপি সাংসদ সরকারের কাছে আবেদন করেছেন যেন মালদার এই প্রাচীন আদিনাথ হিন্দু মন্দির-কে রক্ষা করা হয়। তাঁর দাবি:
স্থাপনাটিকে একটি ‘টিকিটযুক্ত সৌধ’ (Ticketed Monument) হিসাবে ঘোষণা করা হোক।
ভারতীয় প্রত্নতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (ASI) দ্বারা একটি সম্পূর্ণ গবেষণা পরিচালিত হোক, যা এই স্থানের ঐতিহাসিক উৎস প্রতিষ্ঠা করবে।
মন্দিরের ধ্বংসাবশেষ ও প্রত্নবস্তুগুলিকে সম্পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া হোক।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি তৃণমূল সাংসদ ইউসুফ পাঠান আদিনা মসজিদের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করার পরও এই বিতর্ক মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল, যেখানে বিজেপির তরফে দ্রুত দাবি করা হয় যে এটি আদিনাথ মন্দিরের অংশ। শমীক ভট্টাচার্যের এই দাবি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, অন্যদিকে তৃণমূল এই ধরনের দাবিকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা বলে কটাক্ষ করেছে।