তিয়ানজিনের পর এবার দিল্লি! রুশ প্রেসিডেন্টের বুলেটপ্রুফ ‘আওরুশ সেনাত’ কেন উদ্বেগের কারণ? দিল্লি পৌঁছেই মোদির বাড়িতে নৈশভোজ পুতিনের!

ভারত-রাশিয়া ২৩তম বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আজ, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে পা রাখছেন। রুশ প্রেসিডেন্টের এই ২৭ ঘণ্টার সফরের দিকে তাকিয়ে আছে গোটা বিশ্ব। এই সফরের জন্য তাঁর ব্যক্তিগত সুরক্ষিত এবং অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত লিমুজিন ‘আওরুশ সেনাত’ মস্কো থেকে ইতিমধ্যেই ভারতে উড়িয়ে আনা হয়েছে।

সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬.৩০টা নাগাদ পালাম সেনা ঘাঁটিতে অবতরণ করবেন পুতিন। এরপর থেকে তাঁর বিলাসবহুল বুলেটপ্রুফ লিমুজিনেই তিনি দিল্লিতে যাতায়াত করবেন। এই বিশেষ লিমুজিনটি রাশিয়ার ‘কোরটেজ’ প্রজেক্টের আওতায় সরকারি কাজে ব্যবহারের জন্য তৈরি করা হয়েছে।

রুশ প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়া থেকে ৫০ জন উচ্চস্তরীয় নিরাপত্তা আধিকারিক দু’দিন আগেই দিল্লিতে পৌঁছে গিয়েছেন। এই দলটি পুতিনের সফরকালে প্রতিটি জায়গার সুরক্ষার দায়িত্বে থাকবে। পুতিনের দিল্লি আগমন থেকে শুরু করে রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা হওয়া পর্যন্ত তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপে নজরদারি চালাবে একাধিক নিরাপত্তা এজেন্সি।

একনজরে পুতিনের ঠাসা সফরসূচি:

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টা: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ৭ লোক কল্যাণ মার্গের বাসভবনে নৈশভোজ।

শুক্রবার সকাল: রাষ্ট্রপতি ভবনে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর পক্ষ থেকে উষ্ণ অভ্যর্থনা।

সকাল ১১.৩০টা: রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন।

সকাল: হায়দরাবাদ হাউজে ২৩তম ভারত-রাশিয়া শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক।

দুপুর ১.৫০ মিনিট: প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে যৌথ সাংবাদিক বৈঠক।

বিকেল ৩.৪০ মিনিট: একটি বাণিজ্য অনুষ্ঠানে যোগদান। (সম্ভবত ভারত মণ্ডপমে FICCI-এর অনুষ্ঠানে)।

সন্ধ্যা ৭টা: রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর আমন্ত্রণে রাষ্ট্রপতি ভবনে নৈশভোজে যোগদান।

রাত ৯টা: রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা।

এই সফর প্রসঙ্গে কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ জয়রাম রমেশ সোশ্যাল মিডিয়ায় মন্তব্য করেছেন যে ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক আজকের নয়, বরং ১৯৫৫ সাল থেকে ভারত-সোভিয়েত অংশীদারিত্বের ফল। মোদি-পুতিনের এই শীর্ষ বৈঠক থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, প্রতিরক্ষা ও ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বড় ঘোষণা আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।