অ্যাপল-অ্যান্ড্রয়েডে মিলবে এবার ফাইল শেয়ারের সুবিধা, জেনেনিন পদ্ধতি

ডিজিটাল দুনিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে অ্যান্ড্রয়েড (Android) ও আইওএস (iOS) ব্যবহারকারীদের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল এই দুই প্ল্যাটফর্মের ডিভাইসের মধ্যে ফাইল আদান-প্রদান করা। অ্যাপলের ‘এয়ারড্রপ’ (AirDrop) ফিচারটি শুধু আইফোন, ম্যাক, আইপ্যাডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল, আবার গুগলের ‘কুইক শেয়ার’ (Quick Share) কাজ করত কেবল অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসগুলোর মধ্যে। ফলে ব্যবহারকারীদের ফাইল শেয়ার করার জন্য ব্লুটুথ, ক্লাউড লিংক বা তৃতীয় পক্ষের অ্যাপের ওপর ভরসা করতে হতো।

অবশেষে এই সীমাবদ্ধতার সমাধান নিয়ে এলো গুগল। অ্যাপলের কোনো সহযোগিতা ছাড়াই অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএসের মধ্যে সরাসরি ফাইল পাঠানোর সুবিধা চালু করেছে তারা। প্রযুক্তি বিশ্বে এই পদক্ষেপকে এক বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

📲 যেভাবে কাজ করবে এই নতুন সংযোগ
প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট দ্য ভার্জের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুগল তাদের ব্লগ পোস্টে জানিয়েছে, তাদের নতুন ফ্ল্যাগশিপ ফোন পিক্সেল ১০ (Pixel 10) সিরিজের ডিভাইসগুলি এখন আইফোনে ঠিক এয়ারড্রপের মতোই সহজে ফাইল শেয়ার করতে পারবে।

আইফোন ব্যবহারকারীর শর্ত: এই সুবিধা পেতে হলে আইফোন ব্যবহারকারীকে তার ডিভাইস সেটিংস থেকে ‘discoverable to everyone’ অপশনটি চালু রাখতে হবে।

পিক্সেল ব্যবহারকারীর শর্ত: একইভাবে, পিক্সেল ব্যবহারকারীও এই সেটিংস চালু করলে আইফোন থেকে ফাইল গ্রহণ করতে পারবেন।

পদ্ধতি: গুগলের মতে, পিক্সেল ডিভাইস থেকে ফাইল পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে ‘কুইক শেয়ার’ ফিচারের মাধ্যমে। এতে অতিরিক্ত অ্যাপ বা ক্লাউড সার্ভিসের কোনো প্রয়োজন পড়বে না।

🛑 আপাতত শুধু পিক্সেল ১০-এই সীমাবদ্ধতা
নতুন এই ফাইল শেয়ারিং সুবিধাটি আপাতত পিক্সেল ১০ সিরিজের ফোনেই চালু করা হয়েছে। অন্য কোনো অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোন, এমনকি পুরোনো প্রজন্মের পিক্সেল ডিভাইসেও এই মুহূর্তে এই সুবিধা নেই। কবে এটি অন্যান্য অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসেও আসবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য দেয়নি গুগল।

দ্য ভার্জকে গুগল নিশ্চিত করেছে যে, এই নতুন ফিচারটি অ্যাপলের কোনো ইনপুট ছাড়াই তৈরি করা হয়েছে।

💬 বিশেষজ্ঞদের মতামত
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএসের মতো দুটি বৃহৎ মোবাইল ইকোসিস্টেমের মধ্যে এমন আন্তঃসংযোগ ব্যবহারকারীদের সুবিধা বহুগুণ বাড়াবে এবং এক নতুন যোগাযোগ-সেতু তৈরি করবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এটি অন্যান্য ব্র্যান্ডকেও মুক্ত ও ইন্টার-অপারেবল সিস্টেম তৈরিতে উৎসাহিত করতে পারে।