সিইও দফতর কি সুরক্ষিত নয়? মাঝরাতে BLO বিক্ষোভের পরই ঠিকানা বদলের নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের!

রাজ্যে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (SIR) সংক্রান্ত কাজ চলার মধ্যেই মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতরের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন (EC)। কমিশনের নির্দেশে এবার রাজ্যের সিইও দফতরটিকে সম্পূর্ণ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে, কলকাতা পুলিশকে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উভয় দফতরেরই নিরাপত্তা বলয় আরও আঁটোসাঁটো করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত:
গত সোমবার, স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশনের কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যার প্রতিবাদে বিএলও-দের (BLO) একাংশ মিছিল করে ফেয়ার্লি প্লেসে অবস্থিত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে পৌঁছে যান। তাদের একটি প্রতিনিধি দল সরাসরি বিল্ডিংয়ের তিন তলায় সিইও মনোজ কুমার আগরওয়ালের বসার স্থান পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
সিইও ব্যস্ত থাকায় অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দিব্যেন্দু দাস তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে, বিএলও-রা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকার করেন। তারা স্লোগান দিয়ে ধর্ণায় বসে যান। কলকাতা পুলিশ তাঁদের দফতর থেকে বাইরে নিয়ে গেলেও বিক্ষোভ থামেনি। বিএলও-দের একাংশ সারারাত সিইও অফিসের বাইরে অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যান।
কমিশনের কড়া নির্দেশ ও প্রশ্নচিহ্ন:
সোমবারের এই ঘটনার পরই সিইও দফতরের নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক মহলে প্রশ্ন ওঠে। প্রশ্ন ওঠে যে নিরাপত্তার ঘেরাটোপে থাকা এই দফতরে বিএলও-রা কীভাবে এত সহজে ঢুকে পড়লেন এবং সারারাত অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে গেলেন? সিইও দফতরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে খোদ নির্বাচন কমিশন।
এই ঘটনার পরই মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর থেকে কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে চিঠি পাঠানো হয়। সিইও দফতর, আধিকারিকদের আসা-যাওয়ার পথ এবং তাঁদের বাড়িতেও নিরাপত্তা আরও বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। লালবাজার কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা-ও জানাতে বলা হয় কমিশনের তরফে।
এরপরই সিইও দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরকে বর্তমান ফেয়ার্লি প্লেসের ঠিকানা থেকে একটি নিরাপদ ও সুরক্ষিত জায়গায় দ্রুত স্থানান্তর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।