আফগান আততায়ীর গুলিতে নিহত ন্যাশনাল গার্ড! ১৯টি দেশের স্থায়ী বাসিন্দাদের গ্রিন কার্ড পর্যালোচনার নির্দেশ ট্রাম্প প্রশাসনের

হোয়াইট হাউসের অদূরে এক আফগান নাগরিকের গুলিতে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ন্যাশনাল গার্ডের সদস্য সারা বেকস্ট্রমের (২০) মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। এই হামলায় আহত হয়েছেন মার্কিন বিমান বাহিনীর স্টাফ সার্জেন্ট অ্যান্ড্রু উলফ, তাঁর অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই গুলি চালানোকে সরাসরি ‘সন্ত্রাসী আক্রমণ’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন। তালিবানদের দখলের পর সামরিক বিমানে করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আনা আফগান নাগরিকদের ছবি দেখিয়ে তিনি বাইডেন প্রশাসনের অভিবাসন নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। ট্রাম্প বলেন, “দেখুন, তারা এভাবেই আসে। বিমানেও এভাবেই তারা একে অপরের উপরে দাঁড়িয়ে থাকে। কোনও পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা অন্য কিছুই ছিল না। আমরা তাদের খুঁজে বের করে আনব।”

১৯টি দেশের গ্রিন কার্ডধারীদের উপর কড়া নজর হামলার পরই অ্যাকশন মোডে ট্রাম্প প্রশাসন এক কঠোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। আফগানিস্তান-সহ মোট ১৯টি দেশের প্রতিটি স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারী ব্যক্তির বিষয়ে ফের কঠোরভাবে পর্যালোচনা করা হবে। মার্কিন আধিকারিকদের দাবি, গুলি চালানোর ঘটনায় আটক সন্দেহভাজন ব্যক্তি একজন আফগান, যাকে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল।

মার্কিন নাগরিকত্ব ও অভিবাসন পরিষেবা (USCIS)-এর ডিরেক্টর জোসেফ এডলো ট্রাম্পের নির্দেশ বাস্তবায়নের কথা জানিয়ে বলেন, “প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশ মোতাবেক আমি উদ্বেগজনক দেশগুলি থেকে আসা প্রতিটি বিদেশীর প্রতিটি গ্রিন কার্ডের ফের পূর্ণাঙ্গ, কঠোরভাবে পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছি। আমেরিকানরা এর আগের সরকারের বেপরোয়া ভুল পুনর্বাসন নীতির মূল্য চোকাবে না।”

ইউএসসিআইএস পরে একটি তালিকা জারি করে জানিয়েছে যে আফগানিস্তান, মায়ানমার, ইরান, লিবিয়া, সোমালিয়া, সুদান, ইয়েমেন সহ মোট ১৯টি দেশ থেকে আসা অভিবাসীদের তথ্য ফের যাচাই করা হবে। ট্রাম্পের অভিযোগ, বাইডেন প্রশাসন পর্যাপ্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই এসব নাগরিকদের দেশে প্রবেশাধিকার দিয়েছিল।