আলুর দামে বড় ঘোষণা! চাষিদের স্বার্থ রক্ষায় কোল্ড স্টোরেজে সংরক্ষণের সময়সীমা বাড়াল রাজ্য সরকার

আলুর দাম যাতে কমে না যায় এবং ক্ষুদ্র চাষিরা যাতে কম দামে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য না হন, সেই কারণেই রাজ্য সরকার আলু সংরক্ষণ করে রাখার সময়সীমা আরও এক মাস বাড়িয়ে দিল। বাজারে আলুর যোগান ও দাম—দুটোই নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কৃষি বিপণন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকার জানিয়েছে, এ বছর আলু সংরক্ষণের সময়সীমা ৩০ নভেম্বরের বদলে বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হচ্ছে। কৃষি বিপণন দপ্তরের মতে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী চাষিদের ভুল বুঝিয়ে অত্যন্ত কম দামে আলু কিনে নেওয়ার চেষ্টা করছিল। বিষয়টি নজরে আসতেই দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে সরকার এই সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
চাষি ও ব্যবসায়ীদের স্বস্তি ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল প্রগ্রেসিভ পটেটো গ্রোয়ার্স অ্যান্ড ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন’ও সরকারের কাছে সময় বাড়ানোর আবেদন করেছিল। তাঁদের যুক্তি ছিল, সময় বাড়ালে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের আলু লোকসানে বিক্রি করতে হবে না এবং তাঁদের স্বার্থ সুরক্ষিত হবে। দপ্তর জানিয়েছে, এ বছর রাজ্যের ৫১৯টি কোল্ড স্টোরেজে মোট ৭০.৮৫ লাখ মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে, যা একটি রেকর্ড।
বর্তমানে কোল্ড স্টোরেজগুলিতে এখনও প্রায় ১২ লাখ মেট্রিক টন আলু মজুত আছে। অক্টোবরের শেষে বৃষ্টি এবং পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলিতে বন্যার কারণে নতুন আলুর চাষ দেরিতে হয়েছে। ফলে বাজারে এখনও সংরক্ষিত আলুই চলছে।
কৃষি বিপণন দপ্তরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, যদি ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এই বিপুল পরিমাণ আলু বাজারে ছাড়া হতো, তাহলে হঠাৎ অতিরিক্ত যোগানের কারণে দামে বড়সড় পতন ঘটত এবং চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হতেন। আবার এর ফলে ডিসেম্বর মাসে আলুর ঘাটতিও দেখা দিতে পারত, এবং বাইরের রাজ্যের আলুর উপর নির্ভর করতে হতো। তাই সময়সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি সঠিক।
পাশাপাশি, রাজ্য সরকার ‘পটেটো প্রকিওরমেন্ট স্কিম ২০২৫’ চালু করে সুফল বাংলার মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের থেকে ৭৫ হাজার কুইন্টাল আলু সরাসরি কিনে বাজারে দামের পতনও সফলভাবে রোধ করেছে। উল্লেখ্য, ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল কোল্ড স্টোরেজ অ্যাক্ট, ১৯৬৬’ মেনে কৃষকদের জন্য হিমঘরগুলিতে ৩০ শতাংশ জায়গা সংরক্ষণ করার নির্দেশ আগেই দেওয়া আছে, যার ফলে ২০২৫ সালে রাজ্যে রেকর্ড ১৪৬.১৩ লাখ মেট্রিক টন আলু উৎপাদন সম্ভব হয়েছে।