চাপ বাড়ল জেলা প্রশাসনের! ৫ দিনের মধ্যে ৮২,০০০ সম্পত্তির তথ্য চাই, কড়া নির্দেশ নবান্নের

কেন্দ্রীয় সরকারের আনা নতুন ওয়াকফ বিল (Waqf Amendment Bill 2025) নিয়ে প্রথমে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কিন্তু আইনি লড়াইয়ে সুবিধা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত নবান্ন সেই কেন্দ্রীয় আইন মানতে বাধ্য হলো। রাজ্যের সব ওয়াকফ সম্পত্তির বিস্তারিত তথ্য এবার কেন্দ্রের নির্দিষ্ট পোর্টালে আপলোড করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই তথ্য আপলোডের জন্য জেলা শাসকদের কাছে ৫ ডিসেম্বর (২০২৫) চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

আটটি জেলার তথ্য আপলোডের ডেডলাইন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতরের সচিব ড. পি. বি. সালিম এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করেন। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, দেশের সব নিবন্ধিত ওয়াকফ সম্পত্তির তথ্য ছয় মাসের মধ্যে ‘umeedminority.gov.in’ পোর্টালে তুলতে হবে, যার সময়সীমা শেষ হচ্ছে ৫ ডিসেম্বর ২০২৫।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৮২ হাজারের বেশি ওয়াকফ সম্পত্তি রয়েছে, যা ৮ হাজারের বেশি ওয়াকফ এস্টেটের অধীনে। এই বিপুল সংখ্যক সম্পত্তির তথ্য আপলোড করার প্রাথমিক দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট মুতাওয়াল্লিদের।

জেলা শাসকদের জন্য ৪টি কড়া নির্দেশ এত কম সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক সম্পত্তির তথ্য আপলোড করার জন্য জেলাশাসকদের চারটি সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশ দেওয়া হয়েছে: ১. মুতাওয়াল্লি, ইমাম, মোয়াজ্জিন ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করে আপলোডের নিয়ম বুঝিয়ে দিতে হবে। ২. শুধুমাত্র অ-বিতর্কিত (non-controversial) সম্পত্তির তথ্য আপলোড করতে হবে। ৩. প্রয়োজনে প্রযুক্তিগত সাহায্যের জন্য Facilitation Centre বা সহায়তা কেন্দ্র খুলতে হবে। ৪. সংখ্যালঘু দপ্তরের রাজ্যস্তরের অফিসারদের জেলায় পাঠানো হয়েছে এই কাজ তদারকির জন্য।

হঠাৎ করে ডেডলাইন ঘনিয়ে আসায় রাজ্যের জেলা প্রশাসনের উপর চরম চাপ তৈরি হয়েছে। এত বিশাল সংখ্যক সম্পত্তির তথ্য স্বল্প সময়ে পোর্টালে আপলোড করা একটি বড় প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।