অকালবৃষ্টি ও পরিবহণ খরচ বৃদ্ধিই মূল কারণ! ডিসেম্বরের আগে সবজির দাম কমার সম্ভাবনা কম, হেঁশেলে কাটছাঁট

শীতের আগমন হলেও বাজারে তার শীতলতার ছোঁয়া নেই। উল্টো সবজির দামের তাপমাত্রায় রীতিমতো ঘামছেন সাধারণ মানুষ। নভেম্বরের শেষ সপ্তাহেও সবজির দামে কোনো স্বস্তি নেই; বরং অনেক ক্ষেত্রেই দাম বেড়েছে আরও। ফলে দৈনন্দিন বাজারসামগ্রী কেনাকাটা নিয়ে নাভিশ্বাস উঠছে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের।

দাম বৃদ্ধির তালিকা:

বাজারে এখন সবজির ঝুড়িতে চড়া দামের রাজত্ব। বড় পেঁয়াজের কেজি বিকোচ্ছে ₹২৭ থেকে ₹৪৫ পর্যন্ত। তবে ছোট পেঁয়াজের দাম আরও ভয়াবহ, যা ঠেকেছে ₹৪৫ থেকে ₹৭৪ টাকায়। টমেটো, যা সাধারণত শীতের শুরুতে সস্তা হয়, সেটিও মিলছে ₹৩১ থেকে ₹৫১ টাকায়। আর কাঁচা লঙ্কা তো যেন আগুন, কেজি প্রতি ₹৪৪ থেকে ₹৭৩। আলুর দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও (₹৩৭ থেকে ₹৬১), অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দামে কমতি নেই।

নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দাম:

কাঁচা কলা: ₹১১ থেকে ₹১৮/কেজি

পেঁয়াজকলি ও ধনেপাতা: ₹১০ থেকে ₹১৭

বিট, করলা, ঢেঁড়শ, ক্যাপসিকাম, বেগুন: সবকিছুর দামই গত বছরের তুলনায় অনেকটাই বেশি।

দামবৃদ্ধির প্রধান কারণ:

পাইকারি ব্যবসায়ীরা এই দামবৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে সরবরাহের ঘাটতি উল্লেখ করছেন। নভেম্বরের অকালবৃষ্টিতে বহু অঞ্চলে মৌসুমি ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে, কিছু অঞ্চলে অতিরিক্ত ঠান্ডায় সবজি নষ্ট হওয়ায় পাইকারি বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই। এছাড়াও, পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় উড়িষ্যা, বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে আসা সবজির দামও বেড়েছে। ফলে, শীতের মৌসুমে যে সবজি সস্তায় পাওয়া যায়, এই বছর সেগুলোও সহজলভ্য হচ্ছে না।

ক্রেতা সংকট ও কাটছাঁট:

কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী বাজারগুলিতে (বেহালা, গড়িয়া, মানিকতলা) বিক্রেতারা ক্রেতা সংকটের অভিযোগ করছেন। দাম বেশি হওয়ায় অনেকেই প্রয়োজনীয় জিনিস কম পরিমাণে কিনছেন। অনেক গৃহিণীই মেনুতে কাটছাঁট করে আধ কেজির জায়গায় ২৫০ গ্রাম সবজি কিনছেন, বা লাউ, কুমড়ো, পুঁইশাকের মতো তুলনামূলক সস্তার শাকসবজির দিকে ঝুঁকছেন।

মধ্যবিত্ত পরিবারের গৃহিণীদের উদ্বেগ আরও বেশি। তাঁদের দাবি, “শীতের সবজি (গাজর, ফুলকপি, বাঁধাকপি) তো সাধারণত কম দামে পাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এবার সবকিছুর দামই আকাশছোঁয়া। রান্নার মেনুতে তাই বাধ্য হয়ে কাটছাঁট করতে হচ্ছে।”

সবজি ব্যবসায়ীদের আশা, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে নতুন মৌসুমি সবজি বাজারে এলে দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে বারবার দাম ওঠানামা করায় ক্রেতারা সেই আশায় বুক বাঁধতে চাইছেন না। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, বাজারে একাধিক দোকান ঘুরে দাম যাচাই করা এবং বিকল্প সবজিতে ঝোঁক বাড়ানোই এখন খরচ নিয়ন্ত্রণের একমাত্র উপায়। আপাতত, শীতের শুরুতেও বাঙালির রান্নাঘরে স্বস্তির ‘ঠান্ডা’ নেই; পকেট গরম করেই ফিরতে হচ্ছে বাজার থেকে।