‘IT পার্কের জমিতে মন্দির কেন?’ শিল্পের বদলে কর্মসংস্থানের সুযোগ নষ্টের অভিযোগ সিপিএমের অশোক ভট্টাচার্যের, পাল্টা জবাব তৃণমূলের

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ফের মহাকাল মন্দির তৈরি ঘিরে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এবার শিলিগুড়িতে প্রস্তাবিত মহাকাল মন্দিরের জন্য জমি হস্তান্তর নিয়ে সরব হয়েছে সিপিএম। তাদের অভিযোগ, প্রায় ৭০০ কোটি টাকা মূল্যের একটি জমি মাত্র ১ টাকার বিনিময়ে ট্রাস্টকে দেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে এই অভিযোগ তোলেন সিপিএম নেতা ও SJDA-এর (শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ) প্রাক্তন চেয়ারম্যান অশোক ভট্টাচার্য। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এই জমিটা থাকলে, আজকের দিনে এটা যদি কোনও প্রকল্প SJDA হাতে নিত, ৭০০ কোটি টাকা মিনিমাম পেত, জমির যা দাম। ৫০ লাখ টাকা কাঠা ওখানে। সেই জমিটা দেওয়া হলো হিডকোকে। আর হিডকোকে দেওয়া হলো ১ টাকার বিনিময়ে। আর হিডকোর মাধ্যমেই জমিটা পেল আরেকটা কোম্পানি।”
শিল্প বনাম মন্দির:
অশোক ভট্টাচার্যের দাবি, বাম আমলে এই জমিটি ভবিষ্যতে IT পার্ক তৈরির জন্য চিহ্নিত করে ঘিরে রাখা হয়েছিল। তাঁর প্রশ্ন, শিল্পের জন্য নির্দিষ্ট এই জমিতে, যেখানে কর্মসংস্থান হতে পারত, সেখানে হঠাৎ মন্দির কেন? তিনি বলেন, “এই জায়গাটা উনি (মুখ্যমন্ত্রী) SJDA-এর হয়ে… কেনই বা একটা শিল্পের জমি, যেখানে কর্মসংস্থান হতে পারে, শিল্পের থেকে যেখানে কর্মসংস্থান হতে পারে, মন্দির তার থেকে বড় নয়।”
প্রসঙ্গত, গত ১৬ অক্টোবর দার্জিলিংয়ে মহাকাল মন্দিরে পুজো দিয়ে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শিলিগুড়িতে একটি বড় মহাকাল মন্দির তৈরির ঘোষণা করেছিলেন। রাজ্য সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, প্রথমে SJDA জমিটি পর্যটন দফতরে তুলে দেবে, সেখান থেকে ট্রাস্টি বোর্ডের হাতে জমি হস্তান্তর করা হবে।
তৃণমূলের পাল্টা জবাব:
সিপিএমের অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছেন তৃণমূল নেতা ও শিলিগুড়ি পুরসভার মেয়র গৌতম দেব। তিনি সিপিএমের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে বলেন, “ওখানে একটা স্টেডিয়াম হচ্ছে। সেটা অশোকবাবু বলেননি। একটা কনভেনশন সেন্টার হচ্ছে কাওয়াখালিতে। সেটা বলেননি। অশোকবাবু লন টেনিসের জন্য জায়গাটা দিয়েছেন, ঝোপ জঙ্গল আর শিয়াল থাকে। সেটার উত্তর কে দেবে?” তিনি আরও অভিযোগ করেন, অশোকবাবু নিজের ইচ্ছেমতো জমি তাঁর পছন্দের লোকেদের দিয়েছেন।
বিজেপির প্রবেশ:
তৃণমূল মন্দির তৈরি করতে চাইলেও সিপিএম কর্মসংস্থান না করে মন্দিরের বিরোধিতা করছে। এই বিতর্কে এবার ঢুকে পড়েছে বিজেপিও। তবে তাদের লড়াই মন্দির কে তৈরি করবে, সেই প্রসঙ্গে। শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর সময়সীমা ২০২৬ অবধি। ফলে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার আসার পরে নিশ্চিতভাবে শিবভক্তরাই এই কাজ নিজের দায়িত্বে, নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে করবে।” এই আবহে মন্দির নির্মাণ ঘিরে শিলিগুড়িতে রাজনৈতিক লড়াই তুঙ্গে উঠেছে।