দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লিতে লিভ-ইন পার্টনারকে নৃশংস খুন, মদ খাওয়া নিয়ে অশান্তির জের, হত্যার পর দেহ গাড়িতে রেখে ঘুমিয়ে পড়ল প্রেমিক

ফের এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী হলো দিল্লি। দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির ছাওলা এলাকায় এক লিভ-ইন পার্টনারকে নৃশংসভাবে খুন করার পর তাঁর দেহ গাড়িতে ফেলে রেখে বাড়ি ফিরে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়ল প্রেমিক। জানা গিয়েছে, মদ খাওয়া এবং বাড়ি বিক্রির টাকা নিয়ে দুজনের মধ্যে তুমুল অশান্তির জেরেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

খুনের নেপথ্যে টাকা ও অশান্তি
নিহত মহিলার সঙ্গী ৩৫ বছরের বীরেন্দ্র সিং। দু’জন গত দুই বছর ধরে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন। বীরেন্দ্র নাজাফগড়ের বাসিন্দা হলেও, তাঁর স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে বলেও খবর।

আর্থিক বিবাদ: কয়েক মাস আগে অগাস্ট মাসে ছাওলায় বীরেন্দ্র যে নতুন তিনতলা বাড়িটি কিনেছিলেন, তার খরচ মেটানো হয়েছিল মহিলার পালম এলাকার পুরোনো বাড়ি বেচে পাওয়া টাকা দিয়ে। সেই বিক্রির পরেও ২১ লক্ষ টাকা বীরেন্দ্রর কাছেই ছিল, যা প্রায়ই দুজনের মধ্যে অশান্তির কারণ হয়ে উঠত।

ঘটনার রাতে: ঘটনার রাতে মদ খাওয়া নিয়ে আবার শুরু হয় তর্কাতর্কি। মহিলা বীরেন্দ্রকে মদ খেতে বাধা দিলে রাগের মাথায় বীরেন্দ্র নিজের কনুই দিয়ে মহিলার গলা চেপে ধরেন, যার ফলে মহিলার মৃত্যু হয়। মহিলার মুখে আঘাত ও আঁচড়ের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে।

দেহে গাড়ির সিটে রেখেই ঘুম
খুনের পর মৃতদেহ সরানোর জন্য বীরেন্দ্র তাঁর দুই বন্ধুকে—একজন পুরুষ ও একজন মহিলাকে—ডেকেছিলেন। তারা দুজন মিলে দেহটি নিচে নামিয়ে গাড়ির পিছনের সিটে তুলে দেন।

বন্ধুরা চলে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরে বীরেন্দ্র মৃতদেহ নিয়ে এলাকা ছাড়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু অতিরিক্ত মদ্যপ থাকার কারণে তিনি মাত্র ১০০ মিটার যেতেই হাল ছেড়ে দেন। এরপর তিনি দেহটি গাড়িতেই রেখে বাড়িতে ফিরে আসেন এবং ফের একপ্রস্থ মদ্যপানের পর নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন সকালে প্রতিবেশীর নজরে আসে বাড়ির সামনে পার্ক করা সুইফট গাড়ির ভিতর মহিলার দেহ পড়ে আছে। তাঁরা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে গাড়ির পিছনের সিট থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং তখনই বাড়ির ভিতরে ঘুমিয়ে থাকা বীরেন্দ্রকে গ্রেফতার করে।

বর্তমানে পুলিশ বীরেন্দ্রর দুই বন্ধুকে খুঁজছে এবং তাদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।