বিজেপি-র নতুন সভাপতি নির্বাচন নিয়ে রাজনাথ সিংহের বাসভবনে শীর্ষ বৈঠক, নেতৃত্ব নির্বাচনে তিনটি মূল মানদণ্ড

ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-এর নতুন সভাপতি নির্বাচনের লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আজ প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের লক্ষ্মীকান্ত বাসভবনে পার্টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণের লক্ষ্যে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলছে, যা এই সপ্তাহে নতুন সভাপতির নাম ঘোষণার পথ প্রশস্ত করতে পারে।বৈঠকে শীর্ষ নেতৃত্বসকাল ১০টার দিকে শুরু হওয়া এই বৈঠকে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রায় সব বড় নাম উপস্থিত রয়েছেন:উপস্থিত নেতারা: জে পি নদ্দা, ধর্মেন্দ্র প্রধান, মনসূখ মান্ডভিয়া, ভূপেন্দ্র যাদব, মনোহর লাল খট্টার এবং কিরেন রিজিজু।রাজনাথ সিংহের বাসভবন বিজেপির ‘স্ট্র্যাটেজি হাব’ হিসেবে পরিচিত, যেখানে প্রায়শই পার্টির বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া, সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম এবং আসন্ন সাংগঠনিক নির্বাচনের রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বলে জানা গেছে।সভাপতি পদের দৌড়ে কারা এগিয়ে?জে পি নদ্দার বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পার্টির সাংগঠনিক কাঠামোকে নতুন শক্তি দেওয়ার জন্য এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। বৈঠকে উপস্থিত নেতাদের মধ্যে গুঞ্জন অনুযায়ী, এই মুহূর্তে যাঁরা সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে আছেন:প্রার্থীর নামপটভূমিশক্তিধর্মেন্দ্র প্রধানওড়িশা, OBC (শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে সফল)সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, আঞ্চলিক ভারসাম্যভূপেন্দ্র যাদব(পরিবেশমন্ত্রী, ২০১৯-এর প্রতিদ্বন্দ্বী)পার্টির পক্ষে অভিজ্ঞ, সাংগঠনিক দিক মজবুতমনোহর লাল খট্টারহরিয়ানা (সম্প্রতি লোকসভায় নির্বাচিত)কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞ প্রশাসকমনসূখ মান্ডভিয়া, কিরেন রিজিজুগুজরাট, অরুণাচল প্রদেশ’ডার্ক হর্স’ হিসেবে বিবেচিতনেতৃত্ব নির্বাচনের মূল মানদণ্ডপার্টির অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, নতুন সভাপতির নির্বাচনে তিনটি মূল বিষয় বিবেচনা করা হচ্ছে:১. সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা: কঠিন সময়ে পার্টিকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা।২. আঞ্চলিক ভারসাম্য: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পার্টির প্রভাব বজায় রাখা।৩. জাতিগত সমীকরণ (OBC-কে প্রাধান্য): বিজেপি এবার ওবিসি (OBC) বা অন্যান্য পিছিয়ে পড়া গোষ্ঠীর একজন শক্তিশালী নেতাকে সামনে আনতে চায়, যাতে উত্তরপ্রদেশ, বিহার এবং মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যে পার্টির ভিত্তি আরও মজবুত হয়।রাজনাথ সিংহের ভূমিকা: দু’বার সভাপতি থাকা রাজনাথ সিংহকে পার্টির ‘মডারেটর’ হিসেবে দেখা হয়। গত মাসে আরএসএস (রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ)-এর সঙ্গেও এই বিষয়ে আলোচনা হয়েছে তাঁর বাসভবনেই। আরএসএস চায় এমন কাউকে যিনি মোদী-শাহের ‘কাল্ট অফ পার্সোনালিটি’-এর বাইরে থেকে পার্টিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।নতুন সভাপতিকে ১৮ কোটি সদস্যের পর আরও ৯ কোটি সদস্য যোগ করার লক্ষ্য পূরণ করতে হবে এবং ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে। এই সপ্তাহের মধ্যেই নতুন সভাপতির নাম ঘোষণা হতে পারে।