SIR-এর মাঝে নতুন বিতর্ক, ডেটা এন্ট্রি কর্মী নিয়োগ এবং বুথ স্থাপন নিয়ে CEC-কে মমতার চিঠি, নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) আবহে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অবিলম্বে হস্তক্ষেপের দাবিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে পাঠানো চিঠিতে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, এই পদক্ষেপগুলি কি “কোনও রাজনৈতিক দলকে সাহায্য করার জন্য” করা হচ্ছে?
মুখ্যমন্ত্রীর উদ্বেগ দুটি বিষয়কে কেন্দ্র করে: প্রথমত, রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর নির্দেশ, যেখানে চুক্তিভিত্তিক ডেটা-এন্ট্রি অপারেটর এবং বাংলা সহায়তা কেন্দ্রের (বিএসকে) কর্মীদের SIR বা অন্যান্য নির্বাচন-সম্পর্কিত কাজে নিয়োগ না করার কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, ব্যক্তিগত আবাসিক কমপ্লেক্সের ভেতরে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের জন্য নির্বাচন কমিশনের একটি প্রস্তাব।
আউটসোর্সিং নিয়ে মমতার প্রশ্ন চিঠিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উল্লেখ করেছেন যে, সিইও অফিস এক বছরের জন্য ১০০০ ডেটা এন্ট্রি অপারেটর এবং ৫০ জন সফটওয়্যার ডেভেলপার নিয়োগের জন্য একটি ‘রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল’ (আরএফপি) দিয়েছে। তৃণমূল সুপ্রিমো প্রশ্ন তুলেছেন, জেলা অফিসগুলোতে যখন প্রচুর “যোগ্য পেশাদার” চুক্তিভিত্তিক কর্মী এই ধরনের কাজ করছেন, তখন কেন পুরো এক বছরের জন্য একটি বহিরাগত সংস্থার মাধ্যমে একই কাজ আউটসোর্স করার প্রয়োজন পড়ছে?
মমতার কথায়, “ঐতিহ্যগতভাবে, ফিল্ড অফিসগুলো সর্বদা তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী নিজস্ব চুক্তিভিত্তিক ডেটা এন্ট্রি কর্মী নিয়োগ করেছে… কেন সিইও অফিস ফিল্ড অফিসের পক্ষে এই ভূমিকা পালন করছে?” তিনি যোগ করেন, “এই কাজটি কি কোনও রাজনৈতিক দলের স্বার্থ পূরণের জন্য করা হচ্ছে? এই পদ্ধতি অবশ্যই বৈধ সন্দেহ তৈরি করে।”
আবাসিক কমপ্লেক্সে বুথ স্থাপনের বিরোধিতা মুখ্যমন্ত্রী ব্যক্তিগত আবাসিক কমপ্লেক্সের ভেতরে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের প্রস্তাবেরও তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তাঁর দাবি, এই ধরনের স্থানগুলি নিরপেক্ষতাকে ক্ষুণ্ণ করে, প্রতিষ্ঠিত নিয়ম লঙ্ঘন করে এবং বাসিন্দা ও সাধারণ জনগণের মধ্যে বৈষম্যমূলক বিভেদ তৈরি করে। মুখ্যমন্ত্রী মনে করিয়ে দেন, ভোটকেন্দ্র সবসময় সরকারি বা আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্থাপন করা হয় যাতে সকলের প্রবেশাধিকার এবং নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা যায়। তিনি প্রশ্ন করেন, “কেন এমন পদক্ষেপের কথা ভাবা হচ্ছে? আবারও, এটি কি কোনও রাজনৈতিক দলের চাপিয়ে দেওয়া পক্ষপাতমূলক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য করা হচ্ছে?”
নির্বাচন কমিশনের মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নাতীত থাকা উচিত বলে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী জ্ঞানেশ কুমারকে নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতার সাথে এই বিষয়গুলি পরীক্ষা করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।