SIR প্রক্রিয়াকে ‘সেমিফাইনাল’ ঘোষণা অভিষেকের, দিল্লিতে সংসদীয় দলের প্রতিবাদ, জেলায় জেলায় ‘ওয়ার রুম’ তৈরির নির্দেশ

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে এবার সর্বাত্মক লড়াইয়ের পথে হাঁটল তৃণমূল কংগ্রেস। সোমবার ভার্চুয়াল বৈঠক থেকে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জোড়া রণকৌশল ঘোষণা করলেন। একদিকে, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে দিল্লিতে বড়সড় প্রতিবাদের পরিকল্পনা, অন্যদিকে, সংগঠনকে চাঙ্গা রাখতে জেলা ধরে ধরে ‘ওয়ার রুম’ তৈরি।
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে কাজ কতটা এগোল, তার রিপোর্ট মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে জমা দিতে হবে। অভিষেকের কড়া বার্তা, বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই এসআইআর পর্বটি ‘সেমিফাইনাল’, তাই একচুল জমিও ছাড়া যাবে না। তিনি কর্মীদের চাঙ্গা করতে বলেন, “আগামী ১৫০ দিনই ঠিক করবে বাংলার আগামী ২০ বছরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, তাই শৈথিল্যের জায়গা নেই।” তাঁর অভিযোগ, “এসআইআর-এর নামে বিহারের কায়দায় বাংলাতেও প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে।”
দিল্লিতে ১২ সাংসদের প্রতিনিধি দল এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির অভিযোগ জানাতে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরে যাচ্ছে তৃণমূল সাংসদদের প্রতিনিধি দল। এই দলে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় (শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করবে), সৌগত রায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ‘ও ব্রায়েন, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, দোলা সেন, মহুয়া মৈত্র, প্রকাশ চিক বরাইক, সাজদা আহমেদ, মমতাবালা ঠাকুর এবং সাকেত গোখলে রয়েছেন। অভিষেকের নির্দেশ, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সময় চেয়ে দেখা করতে হবে।
কমিশনের বিরুদ্ধে এফআইআর-এর হুঁশিয়ারি বৈঠকের এক পর্বে অভিষেক বলেন, এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর পর থেকে এই সময়ের মধ্যে ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৩ জন বিএলও। তিনি প্রশ্ন তোলেন, মৃতদের পরিবার যখন মনে করছে কমিশনের কারণেই মৃত্যু হয়েছে, তাহলে কেন কমিশনের বিরুদ্ধে এফআইআর হবে না? তাঁর সাফ নির্দেশ, নির্বাচন সদনে গিয়ে এই ভাষাতেই তীব্র প্রতিবাদ জানাতে হবে।
কর্মী ও নেতাদের জন্য কড়া নির্দেশিকা অভিষেক বিধায়কদের আগামী ১০ দিনের মধ্যে বুথ পিছু অন্তত ১৫ জন বিএলএ-কে (বুথ লেভেল এজেন্ট) সক্রিয় করার নির্দেশ দিয়েছেন। সাংসদদের প্রতিদিন কমপক্ষে ৫০ জন কর্মীকে ফোন করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে হবে। অভিষেকের সাফ কথা, “আমাদের লক্ষ্য ১০০ শতাংশ ফর্ম সাবমিশন। ৯৯ শতাংশ নয়, ১০০ শতাংশ।”
কে কোথায় দায়িত্বে? দিল্লিতে প্রতিবাদের প্রস্তুতির পাশাপাশি বাংলায় সংগঠনকে মজবুত করতে জেলাভিত্তিক ‘ওয়ার রুম’ তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে বিভিন্ন জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের: ফিরহাদ হাকিম (কলকাতা), অরূপ বিশ্বাস (হুগলি, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান), মানস ভুঁইয়া (বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া), মলয় ঘটক (পশ্চিম মেদিনীপুর), বেচারাম মান্না (পূর্ব মেদিনীপুর), সামিরুল ইসলাম (উত্তর দিনাজপুর ও মালদা), এবং সুজিত বসু (রানাঘাট, বনগাঁ ও বসিরহাট)।