বিএলও-দের বিক্ষোভের পরই পদক্ষেপ, ১২০০-র বেশি ভোটার থাকলে অতিরিক্ত বিএলও নিয়োগ, ঘোষণা সিইও-র

ভোটার তালিকা সংশোধন ও এসআইআর (SIR) কার্যক্রমকে ঘিরে রাজ্যে বাড়তে থাকা কাজের চাপ এবং ডিজিটাল আপলোডের বোঝা নিয়ে নাজেহাল বুথ লেভেল অফিসারদের (বিএলও) তীব্র বিক্ষোভের মুখে নমনীয় হল কমিশন। সোমবার কমিশনের দপ্তরের বাইরে ‘বিএলও অধিকার রক্ষা কমিটি’-র ডাকে মেঝেতে বসে বিক্ষোভ দেখান কর্মীরা। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ আগরওয়াল।

সিইও জানিয়েছেন, যেখানে ভোটারের সংখ্যা ১২০০-র বেশি, সেখানে অতিরিক্ত বিএলও নিয়োগ করা হবে। এতে কারো উপরই অতিরিক্ত কাজের চাপ পড়বে না। কমিশন সূত্রে খবর, এটি স্থায়ী ব্যবস্থা নয়, বরং এসআইআর-এর কাজ সুষ্ঠুভাবে ও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার জন্য একটি সাময়িক জনবল বৃদ্ধি।

বিএলও-দের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, ভোটার তালিকা সংশোধন ফর্ম বিলি, গ্রহণ ও যাচাই করার পাশাপাশি সমস্ত তথ্য ডিজিটালে আপলোড করার বাড়তি দায়িত্ব তাদেরকেই পালন করতে হচ্ছে। এর জন্য কোনও অতিরিক্ত কর্মী নিয়োগ করা হয়নি। তাদের মতে, হাজারের বেশি ভোটার বিশিষ্ট এলাকায় কাজের চাপ দ্বিগুণ হয়ে যাওয়ায় নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করা কঠিন।

সিইও মনোজ আগরওয়াল এদিন আরও জানান, এখনো পর্যন্ত ৯৯.০৭ শতাংশ ফর্ম বিলির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। যদি কোনো ভোটার ফর্ম না পান, তবে তিনি সরাসরি ই-মেইল বা হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারবেন। এছাড়া, প্রতিটি ব্লক স্তরের ইআরও/বিডিও দপ্তরে হেল্প ডেস্ক খোলা হয়েছে।

মনোজ আগরওয়াল বিক্ষুব্ধ কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “যারা মাঠে নেমে কাজ করছেন তাদের আমরা ধন্যবাদ জানাই। কাজের চাপ থাকলেও বেশির ভাগই দায়িত্ব নিয়ে কাজ করছেন।” তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে কাজের বর্তমান গতি দেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হবে। তবে অতিরিক্ত বিএলও নিয়োগের এই ঘোষণা কিছুটা স্বস্তি দিলেও মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মতে, এনুম্যারেশন পদ্ধতিকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করা এবং ডিজিটাল আপলোডের চাপ কমানো দরকার।