রাত আড়াইটেয় চেক-আউট! কসবা হোটেল কনস্যুলেটে ঠিক কী হয়েছিল, সিসিটিভি ফুটেজে ঘনাচ্ছে রহস্যের জট

পার্ক স্ট্রিটের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কসবার রাজডাঙা এলাকার হোটেল কনস্যুলেটে এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। আজ সকালে হোটেলের বন্ধ ঘর থেকে এক যুবকের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মাথায় আঘাতের চিহ্ন থাকায় পুলিশ প্রাথমিকভাবে এটিকে খুন বলে সন্দেহ করছে।

জানা গিয়েছে, গতকাল রাতে মোট তিন জন অ্যাপের মাধ্যমে হোটেলের ৪ তলার একটি ঘর বুক করে চেক-ইন করেছিলেন। এর মধ্যে ছিলেন দু’জন পুরুষ এবং একজন মহিলা।

রাত আড়াইটেয় নিরুদ্দেশ ২ সঙ্গী

পুলিশ সূত্রে খবর, গতকাল গভীর রাতে, রাত আড়াইটে নাগাদ ওই এক মহিলা-সহ দু’জন ঘর থেকে বেরিয়ে যান এবং চেক-আউট করে চম্পট দেন। আজ সকালে দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করেও ঘরের ভিতর থেকে সাড়া না পাওয়ায় হোটেলের কর্মীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। তখনই তাঁরা দেখতে পান, ওই যুবকের দেহ ঘরের মধ্যে পড়ে রয়েছে। তাঁর মাথায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল।

খবর পেয়ে কসবা থানা পুলিশ ও লালবাজারের হোমিসাইড শাখা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। ডাকা হয় সায়েন্টিফিক উইংয়ের সদস্যদের এবং ডগ স্কোয়াডকেও।

আধার কার্ড এবং সিসিটিভি

প্রাথমিকভাবে মৃতের পরিচয় জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। জানা গিয়েছে, চেক-ইন করার সময় আধার কার্ড নম্বর দেওয়া হয়েছিল, তবে সেটা মৃতেরই কিনা, পুলিশ নিশ্চিত হতে চাইছে। অন্যদিকে, যে দু’জন হোটেল থেকে বেরিয়ে যান, তাদের খোঁজে সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার কাজ শুরু করেছে পুলিশ। মনে করা হচ্ছে, এই হত্যাকাণ্ডের কিনারা করতে ওই দুই সঙ্গীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পুরোনো স্মৃতি: পার্ক স্ট্রিট হত্যাকাণ্ড

উল্লেখ্য, এর আগে অক্টোবরের শেষদিকে পার্ক স্ট্রিটের আল বুর্জ ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে একই ধরনের চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছিল। সেখানে বছর ২৫-এর রাহুল লাল নামে এক যুবকের দেহ বক্স খাটের ভেতর থেকে উদ্ধার হয়। লুঠপাটে ব্যর্থ হয়ে ধস্তাধস্তির মধ্যে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে রাহুলকে খুন করা হয়েছিল। সেই ঘটনায় ওড়িশার কটক থেকে শক্তিকান্ত বেহরা ও সন্তোষ বেহরা নামে দু’জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তারা গাইড পরিচয়ে রাহুলের সঙ্গে আলাপ জমিয়ে হোটেলে গিয়েছিল।

পার্ক স্ট্রিটের ঘটনার পর এবার কসবার ঘটনায় ফের একবার শহরের হোটেলের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠল।