ভয়াবহ বিপদ আসছে? রিখটার স্কেলে ৪.৩ তীব্রতা, বড় ভূমিকম্প হলে ঢাকার কী হবে, সতর্ক করলেন বিশেষজ্ঞরা

বাংলাদেশে ফের ভূমিকম্প অনুভূত হলো। শুক্রবারের পর শনিবারও ঢাকা-সহ পার্শ্ববর্তী বিস্তীর্ণ অঞ্চল কেঁপে উঠল। শুধু একবার নয়, শনিবার সকালে একবার এবং সন্ধ্যায় একবার— মোট দু’বার কম্পন অনুভূত হয়। দু’দিনই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী।
আমেরিকার জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা বেজে ৬ মিনিটে মাটি কেঁপে ওঠে। কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদী থেকে ১১ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং ভূগর্ভের ১০ কিলোমিটার গভীরে। রিখটার স্কেলে কম্পনের তীব্রতা ছিল ৪.৩। অন্যদিকে, ইউরোপিয়ান মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার এই তীব্রতা ৩.৭ বলে দাবি করেছে।
তবে শনিবারের কম্পন প্রথম নয়। এদিন সকালেও পলাশ উপজেলায় মৃদু কম্পন অনুভূত হয়। সকাল ১০টা বেজে ৩৬ মিনিটে অনুভূত হওয়া সেই কম্পনের তীব্রতা ছিল রিখটার স্কেলে ৩.৩।
আতঙ্কের কারণ
পর পর দু’দিন ভূমিকম্পে মাটি কেঁপে ওঠায় বাংলাদেশে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। যদিও শনিবারের নতুন কম্পনে এখনও পর্যন্ত কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির স্পষ্ট খবর মেলেনি। তবে শুক্রবারের ভূমিকম্পের ভয়াবহতা এখনও কাটেনি— সেই দিনের তীব্র কম্পনে ১০ জন নিহত এবং ৬০০-র বেশি মানুষ আহত হন। বাড়িঘর ভেঙে পড়ে তৈরি হয়েছিল ধ্বংসস্তূপ।
এভাবে পর পর মাটি কেঁপে ওঠায় বিশেষজ্ঞরা অশনি সংকেত দেখছেন। ২০০৯ সালের একটি সমীক্ষার উল্লেখ করে তাঁদের একাংশ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, ভবিষ্যতে বড় ভূমিকম্প হলে ঢাকা শহরে ৭২ হাজার বাড়ি ভেঙে পড়তে পারে এবং আরও ১ লক্ষ ৩৫ হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা দ্রুত দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গতকাল বাংলাদেশে ভূমিকম্প হলে সেই কম্পন কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলাতেও অনুভূত হয়েছিল, যা পশ্চিমবঙ্গেও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।